সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘীসগুনা ইউনিয়নের দিঘীসগুনা বাজার এলাকায় অবস্থিত দিঘীসদগুনা এম.এ.আর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ২৫ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি। এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ৯ শিক্ষক ও ৩ কর্মচারি। দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতন ভাতা না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এমপিওর আশায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও এটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্দিন চলছে। দেনার দায়ে দোকানদাররা আর আমাদের বাকি দিতে চায় না। কারণ তাদের যথাসময়ে পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারি না।
তিনি জানান, তার দিঘীসদগুনা এম.এ.আর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুনামের সাথেই পাঠদান ও শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে আসছে। এমপিও ভুক্তির সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টির অনুমোদন না হওয়ায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মির্জা আব্দুর রশীদ মাহমুদ বকুল বলেন, এমপিও ভুক্তির সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে। এছাড়া পাঠদান ও শিক্ষার্থীরা জে.এস.সিতে ভালো ফলাফল করে আসলেও বিদ্যালয়টি এখনও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জন আকাঙ্ক্ষার সরকার, আশা করি তারা হয়তো শিক্ষক, কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দিঘীসদগুনা এম.এ.আর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত করবেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ডা. আব্দুল আজিজ ও তার অনুগত বাহিনীর কারণে বিদ্যালয়টি এখনও এমপিও ভুক্ত হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের কাছে হতদরিদ্র এই জনপদের নারী শিক্ষার বিকাশ ও আলোকিত নারী সমাজ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিও ভুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, একটি বিদ্যালয় এমপিও ভুক্ত হতে এতো সময় লাগার কথা নয়, অথচ এ বিদ্যালয়টি এখনও কেনো হয়নি তা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি অমানবিক ও দুঃখজনক। আমি চাই এটি দ্রুত এমপিও হোক। বিদ্যালয়টির হালনাগাদ কাগজপত্র আমার কাছে জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
