একটি সত্যিকারের মানবিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য সরকার অবসরভাতা প্রদানের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রবীণ সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানকে দেখতে গিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী। তার হাতে সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ডের চেক হস্তান্তর করতে গিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তা উপেক্ষিত থেকেছে। বর্তমান সরকার অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই বিষয়ে সজাগ বলেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়েছিল। সেই কল্যাণ ট্রাস্ট অসুস্থ, চিকিৎসাধীন সাংবাদিকদের সহযোগিতা দিচ্ছে।
সাংবাদিকতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। মাঠে ময়দানে, বিভিন্ন অফিস আদালতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ধরনের হিংস্রতার শিকার হন সাংবাদিকরা। অস্থির সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, অনেকের রোষের শিকার হন সাংবাদিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা সাধারণ সংবাদ, গোপন সংবাদ ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার জন্য শারীরিকভাবেও নিগৃহীত হন। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ করতে গিয়ে তাদের যে সম্মান পাওয়ার কথা, অধিকাংশ মিডিয়া কর্র্তৃপক্ষ তা দিতে অক্ষম। কারণ কয়েকটি মিডিয়া হাউজ বাদে, বাকিগুলোর আয় দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। তবু একের পর এক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া বাড়ছে। সাংবাদিকও সংখ্যায় বেড়েছে। কিন্তু সব মিডিয়ায় সম্মানী ও নিয়মিত বেতনভাতা, প্রণোদনা নেই বললেই চলে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চাহিদার তুলনায়, বিজ্ঞাপনের পরিমাণ কম। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকেই সংকটে পড়তে হয়।
এক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকার কাজটি সম্পন্ন করবে বলে আমরা মনে করি। কারণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করতে পারলে, কোনো ভালো কাজই শেষ পর্যন্ত ভালো থাকে না। আর একই সঙ্গে আমরা সাংবাদিকতার গুণগত মান বৃদ্ধির কথাও বলব। অনেক সাংবাদিক প্রবীণ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মহীন, রোজগারহীন হয়ে পড়েন। ইচ্ছা থাকলেও নবপ্রজন্মের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। অথচ সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বিবেচনা করা হয়, কিন্তু ওই পর্যন্তই। সরকারকে যে সহযোগিতা করে সরকারি ও বেসরকারি সাংবাদিক সমাজ, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে সরকার। চোখে আঙুল দিয়ে সমস্যা-সংকট আর পুকুর চুরির ঘটনা প্রকাশ করে তারা বাহবা পান, কিন্তু কর্মজীবনে তেমন আর্থিক প্রণোদনা জোটে না। এবার গণতান্ত্রিক সরকার বোধকরি উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, সাংবাদিক হচ্ছে সরকারের তৃতীয় নয়ন। তাই সরকার প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।