মিয়ানমারে প্রতিবছর সাধারণত জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। সেই প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিয়ানমারে হাজারো বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা বা সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন। গত শুক্রবার সকালে তাউঙ্গু কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাজধানী নেপিদোতে নিজ পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের নির্দেশনায় উইন মিনকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। সম্প্রতি মিয়ানমারে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বেইজিং তার জন্যও চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন তারা। মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। তার পরপরই সু চি, উইন মিনসহ সদ্য ক্ষমতাচ্যুত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতাদের গ্রেপ্তার করে বন্দি করে রাখে। পরে দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগের দায়ে উইন মিনকে সাড়ে ৯ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সাড়ে ৪ বছর আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হলো। একই সাধারণ ক্ষমার আওতায় সু চির সাজার মেয়াদ চার বছর হ্রাস করা হয়েছিল। দুর্নীতিসহ অন্য যেসব অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। সু চি ও ইউনকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ, আসিয়ান ও বিশ্ব সম্প্রদায় বারবার আহ্বান জানিয়েছে। ৮০ বছর বয়সী সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের সাজাভোগ করছেন। এতে তার সাজা কমে দাঁড়াল সাড়ে ২২ বছরে। তবে নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দিত্বে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সুচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন মিন অং হ্লাইং। এতে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে; জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তীব্র লড়াই হয় সেনাবাহিনীর। এর মধ্যেই মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং। গত ৩ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। গত ৬ মাসে তৃতীয়বারের মতো বন্দিদের সাজা কমালেন মিন অং হ্লাইং। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
