ব্রিটেনকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি মস্কোর

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ বছরে পড়া এই যুদ্ধ বন্ধের কোন দৃশ্যমান লক্ষণ নেই। উল্টো পাল্টাপাল্টি হামলা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কিয়েভকে এই ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও ড্রোন সহায়তা দেওয়া বন্ধ না করা হলে যুক্তরাজ্যকে এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে এবং এতে করে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেমলিন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রুশ সরকারের মুখপাত্ররা জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ড্রোন দিয়ে সহায়তা করার অর্থ হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হওয়া। যুক্তরাজ্য সরকার যদি ড্রোন সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের সেগুলো পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলো রাশিয়ার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ প্রযুক্তি ও ড্রোনের সহায়তায় রুশ ভূখণ্ড ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে মস্কোর ক্ষোভ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে এসেছে যে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতেই তারা কিয়েভকে দীর্ঘপাল্লার এবং আত্মঘাতী (কামিকাজে) ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে আসছে। পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাজ্যই অন্যতম প্রধান দেশ, যারা ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনকে ড্রোন ও আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে। লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই জাতীয় হুমকি বা হুঁশিয়ারি নতুন কিছু নয় এবং এটি ইউক্রেনকে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

রাশিয়ার এই খোলাখুলি হুমকির পর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রোন সরবরাহকে কেন্দ্র করে মস্কো ও লন্ডনের মধ্যকার এই বাগযুদ্ধ সরাসরি ন্যাটো-রাশিয়া মুখোমুখি যুদ্ধের পথ ত্বরান্বিত করতে পারে। দুটি আলাদা ব্রিটিশ কোম্পানির বানানো ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভেতরে অনেক সামরিক অবকাঠামো ও শিল্প কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তেল শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামও রয়েছে। ইউক্রেন প্রায়শই রাশিয়ার এই ‘আমাজনখ্যাত’ কোম্পানিতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি বড় সরবরাহকেন্দ্রের ৭টিই তারা অচল করে দিয়েছে। সামরিক একটি সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া। গত এপ্রিলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছিল যে তারা ইউক্রেনকে কয়েক হাজার ড্রোন সরবরাহ করবে, যার মধ্যে দীর্ঘ পাল্লার ড্রোনও রয়েছে। এটি ছিল ইউক্রেনের জন্য ব্রিটেনের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্যাকেজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত