২২ বছরেও সংস্কার হয়নি শাহপরীর দ্বীপ জেটি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীতে ২০০৪ সালে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি। নির্মাণের পর ২২ বছর কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত জেটিটি একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি। রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ খুলে পড়ায় জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারের দুটি সংস্থার ঠেলাঠেলিতে জেটিটি সংস্কার হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

টেকনাফ শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত সড়কের পূর্বে নাফ নদীতে নির্মিত জেটিটিতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চলাচল রয়েছে। জানা যায়, শাহপরীর দ্বীপ অংশের নাফ নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলে ভরাট করা হেেয়ছিল প্রায় হাজার একরের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের নিচু এলাকা। বালু উত্তোলনের কারণে জেটির খুঁটির আশপাশ দেবে গেছে ও জেটির রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে ভবিষ্যতে পুরো শাহপরীর দ্বীপ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মেসার্স চায়না হারবাল নামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলন করলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেও আগে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছিল স্থানীয় লোকজন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনের পর্যটক যানসহ জেলেদের নৌযান এবং মিয়ানমারের পশু করিডোর সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জেটিটি নির্মাণ করে। জেটিটিতে বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও চারটি সিঁড়ি রয়েছে। জেটির পাশে গাড়ি পার্কিং স্পট রয়েছে। জেটিটি ২০০৪ সালে কক্সবাজার জেলা পরিষদকে হস্তান্তর করা হলে সেটি ২০০৬ সালে উদ্বোধন করে উন্মুক্ত করা হয়।

গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ওই জেটির রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে বালিতে পড়ে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেটি দিয়েই চলাচল করছেন পর্যটকসহ স্থানীয়রা। জেটির মুখে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যরা।

এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজিবি সদস্য বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জেটিতে বড় ধরনের কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা সত্য, জেটির রেলিংসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। এ কারণে আমরা লোকজনকে বেশি ভিড় না করতে অনুরোধ করছি। জেটির অবস্থা খুব নাজুক, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।’

নুর মোহাম্মদ নামে দ্বীপের এক বাসিন্দা বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীর কিনারায় শাহপরীর দ্বীপের জেটিটি ২০০৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে কখনও সংস্কার করতে দেখা যায়নি। জেটির রেলিং কনস্ট্রাকশন যা আছে, সব ভেঙে যাচ্ছে। জেটির ভয়াবহ অবস্থা। নাফ নদীর বুকে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক বেড়াতে আসেন। এ ছাড়া এই জেটি দিয়ে সেন্টমার্টিনও চলাচল করে থাকেন অনেকে। তাই এটি খুব দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত বেজার প্রকল্প সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের বিশাল নিচু জমি ভরাটের জন্য নাফ নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শুধু জেটি না, এত বেশি বালু উত্তোলন করা হয়েছে যে, পুরো দ্বীপই হুমকির মুখে।’

এ ব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ শাহপরীর দ্বীপের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন জানান, শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে শত শত পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে। ফলে জেটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় বহু লোকের আয়ের উৎস। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই জেটি সংস্কার করা হোক।’

জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ জেটিটির বড় ধরনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়লেও এর দায়িত্ব নিচ্ছে না এলজিইডি ও জেলা পরিষদ কার্যালয়। এই দুই সংস্থা পরস্পরের ওপর দায় চাপিয়ে এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ বলেন, জেটিটি সংস্কারের বিষয়ে এক বৈঠকে এলজিইডিকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিঠি পাঠানো হলে জেটি সংস্কারে বাজেট নির্ধারণ করে দেবে তারা। এরপর বলা যাবে জেটিটির সংস্কার করতে কী পরিমাণ ব্যয় হবে। তারপর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

টেকনাফ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আলাউদ্দিন বলেন, ‘জেটিটি জেলা পরিষদকে ২০০৪ সালে হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকে জেটি সংস্কার ও দেখভালের দায়িত্ব তাদের।’

টেকনাফের ইউএনও মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ওই জেটির বিষয়ে জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি তারা সংস্কারে দ্রুত কাজ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত