গজারিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ এএম
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠছে, নিহত স্বজনদের দাবি শীর্ষ সন্ত্রাসী পিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
 
সোমবার (২০ মার্চ) ভোর ৫টায় উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন এর বালুচর গুদারাঘাট সংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটে। 
 
নিহত ঐ যুবকের নাম মো. রকিব (২২), সে চাঁদপুর জেলার মতলব (উ.) উপজেলার আমিয়াপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন এর ছেলে। 
 
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোট বেলায় বাবা মার ডিবোর্স হয়ে যাওয়ায় নানা বাড়ি গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন এর শিমুলিয়া গ্রামে নানা রহিম বেপারীর বাড়িতে বড় হয়েছে, মাকে নিয়ে ইউনিয়নের বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। 
নিহতের মা রুমি বেগম বলেন, রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চারজন যুবক গাড়ি নিয়ে দড়ি বাউশিয়া গ্রামে আমার ভাড়া বাসায় আসে। তারা আমার ছেলেকে পিয়াসের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে আমি আপত্তি করি। তারা জানায়, তারা আমার ছেলের পূর্ব পরিচিত, চাইলে আমি মোবাইলে তাদের ছবি তুলে রাখতে পারি। পিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারা গাড়িতে করে ছেলেকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এখন পেলাম আমার ছেলের লাশ।
 
এ বিষয়ে খালাতো ভাই ইমরান বলেন, রাতেই আমরা তার পিছনে পিছনে যাই কিন্তু গাড়ি না পাওয়ায় হেঁটে হেঁটে গুয়াগাছিয়া যাই, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারি বালুচর এলাকায় নদীর পাড়ে এক যুবককে ফেলে রাখা হয়েছে। ফজরের দিকে সেখানে গিয়ে তারা রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। রাকিব তখন তাকে মারধর করার কথা জানায়। কয়েকবার পানি খাওয়ার আকুতি জানানোর পর সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক মো. সোলায়মান জানান, ভোর ৫টার দিকে ঐ যুবককে নিয়ে আসা হয়, তার পিঠে ও পাছায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন থাকলেও গুরতর কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় নাই, তবে মনে হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 
বিষয়টা নিয়ে অভিযুক্ত পিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিক বার ফোনে কল দিলেও রিসিভ করে নাই।
 
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, বিষয়টা আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত