ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

নদীপথে ট্রলারে করে এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি: বাধা দেওয়ায় গৃহকর্তাকে কুপিয়ে জখম করে চম্পট দিল সশস্ত্র ডাকাত দল!

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত হয়েছে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ভিটিকান্দি গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে স্বপন শিকদারের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দল নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় গৃহকর্তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল নদীপথে ট্রলারে করে এসে স্বপন শিকদারের ভবনের বারান্দার পকেট গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেও ডাকাতরা মুহূর্তের মধ্যে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় গৃহকর্তা স্বপন শিকদার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীকালে ডাকাত দলটি ঘর থেকে নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ সর্বমোট প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে চম্পট দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ শিকদার জানান, ডাকাত দল বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। কিন্তু বাসাটি মেঘনা নদীর একেবারে তীরে হওয়ায় ডাকাতেরা নদীপথে এসে আবার ট্রলারে করেই পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পিছু ধাওয়া করলে ডাকাতরা গুলির হুমকি দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি পিস্তলও ছিল।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে।

উল্লেখ্য, গজারিয়ার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে গত ২২ জুলাই রাতে টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের আবু তালেব খন্দকারের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতি সংগঠিত হয়। সেখান থেকে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি বালুয়াকান্দি, টেংগারচর ও ভবেরচর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নদী তীরবর্তী গ্রামে একইভাবে ডাকাতির চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যেই নদীপথে ট্রলার নিয়ে সশস্ত্র ডাকাত দলের আগমনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত