ঢাবির কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে গেস্টরুম নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২০২৪-২৫ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা পরিচয় পর্ব বা ম্যানার শেখানোর নামে রাতে জুনিয়রদের নিয়ে বসার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। 

যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গেস্টরুম ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন- লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী আল মোসাদ্দেক, খালিদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ আনাস, সাবিক ইসলাম, ইব্রাহিম, মনিরুল। তারা সবাই লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গেস্টরুমে উপস্থিত থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, গত চার দিন ধরে তাদের হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মমাফিক হয়রানি চলছে। প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে গভীর রাত ২টা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখা হয়। সিনিয়ররা একে 'ম্যানার শেখানো' বললেও বাস্তবে এটি চরম মানসিক হয়রানি বা র‍্যাগিংয়ের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ৪৩তম ব্যাচের মোসাদ্দেক নামের এক শিক্ষার্থী নারী সহপাঠীদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের নারী সহপাঠীরা মূলত "সিনিয়রদের খাবার"। এই ধরণের বক্তব্য যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের মানসিকতার পরিচায়ক। এই বক্তব্য আমার কাছে অনেক খারাপ লেগেছে। 

ঐ শিক্ষার্থী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হয় যে, কথা না শুনলে তাদের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যারা আরও "ভয়ংকর" বা "সাংঘাতিক"। শিক্ষার্থীদের জোর করে রাত জেগে সিনিয়রদের সামনে সালাম দেওয়া এবং আত্মপরিচয় দেওয়ার তথাকথিত শিষ্টাচার পালন করতে বাধ্য করা হয়। সাধারণত ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর রুমে এসব ঘটনা ঘটে। তবে সর্বশেষ গত রাতে হলের ডাইনিং রুমে প্রকাশ্যেই এই কার্যক্রম চলেছে।

গতকাল রাতে ডাইনিং রুমে হওয়া গেস্টরুম নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, রাত ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত চলে। সেখানে ৪৩তম ব্যাচের পাশাপাশি ৪২তম ব্যাচ এবং তারও উপরের ব্যাচের সিনিয়ররা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ছাত্রদলের পরিচয়ধারী ৪ থেকে ৬ জন বড় ভাই উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীনদের সমস্যার কথা জানতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হিসেবে ইমিডিয়েট সিনিয়রদের কথা শোনার কথা বলেন। 

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিম বলেন, আমাদের এখানে গেস্টরুম কালচার নাই। আমরা শুধু সবার সাথে একদিন বসছিলাম। বসে সবাইকে নিয়ম শিখাইছি যে, বড় ভাইদের দেখে একটু সম্মান দিয়ে চলবা, বড় ভাইদের সামনে শর্ট প্যান্ট পড়ে চলবা না, বড় ভাইদের দেখলে বেয়াদবি করবা না। আমরা কোনো গেস্ট রুম নেইনি শুধু সুন্দরভাবে শিখাইছি পরিচয় হইছি ওদের সাথে। এগুলো হঠাৎ মাঝে মাঝে এক দুই দিন হয়।


অভিযুক্ত আল মোসাদ্দেক বলেন, এসব আমি জুনিয়রদের সাথে ফান করার জন্য বলছি, আর কিছুই না। ঔ মুহুর্তে আমি বলে দিয়েছি যে আই ওয়াছ জাস্ট কিডিং। ঐদিন আমরা জুনিয়র সিনিয়র জাস্ট বসছিলাম। দুইদিন ওদের সাথে বসা হয়েছিল। আমরা রেগিং করি নাই। মেয়েদের বিষয়টাও আমি কিডিং করেই বলছি। সিনিয়ররা আমাদের যেভাবে ট্রিট করছে, যেভাবে কথা বলছে তার তুলনায় আমরা তাদের কিছুই করিনি।


আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ আনাস বলেন, পরিচয় পর্বের দিন ছিলাম । যেহেতু সিনিয়ররা যাইতে বলছিল। না গেলে উপর থেকে প্রেসার আসে। এ জন্য টিউশন করানোর পর রাতে আবার থাকা লাগতো। আমি গেছি পরিচয় হয়েই চলে আসছি। এ পর্যন্ত আমি দুইদিন ছিলাম। রুমের সমস্যা, খাবারের সমস্যা, স্বাস্থ্যের কি অবস্থা এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতেছিলাম।


ড. কুদরত-ই-খোদা হোস্টেল শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাথে সংযুক্ত। এমন ঘটনা সম্পর্কে কোন কিছু জানেন কিনা এবিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, আমি এ ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি। এবিষয়ে ডাকসু ও হল সংসদ আজকে ভিসির সাথে সাক্ষাৎকার করে জবাবদিহি করবে। আমি নিজে হোস্টেলে গিয়ে খোঁজ নিবো। এমন ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না৷ 

এবিষয়ে ড. কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলের ওয়ার্ডেন ড. মো. ফরহাদ আলী বলেন, এ বিষয়ে আজকে দুপুরে সাংবাদিকরা জানিয়েছে। সাথে সাথেই হোস্টেলে এসে জুনিয়র ব্যাচকে নিয়ে বসেছি। ওরা যদিও আমার কাছে কিছু বলেনি। সিনিয়ররা ম্যানার শিখাবে, এটা আমরা কোনো ভাবেই চাই না। আর আজ রাত ৮ টায় ৪৩ ব্যাচ নিয়ে বসব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত