সাঁওতালদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ সোমবার (২০) দুপুরে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে একই দাবিতে পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে গোবিন্দগঞ্জ সাঁওতাল পল্লী থেকে কয়েকটি বাসযোগে গাইবান্ধা শহরে আসেন সাঁওতালরা। পরে হামলাকারীদের বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা শহরের সুখনগর এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন। এতে সাঁওতালরা তির ধনুক ও প্লাকাড ফেস্টুন হাতে শ্লোগান দিতে দিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দেড় শতাধিক সাঁওতাল অবস্থান নেন। পরে পুলিশ সুপারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ফিলিমন বাস্কে, সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, সদস্য অঞ্জলি মুরমু, শিউলি মার্ডি, সাহেব মুরমু, আমিন হেমব্রম, লুইস মুরমু, রিপন বেশরা, শ্যামবালা হেমব্রম, গাইবান্ধা আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম ও সংহতি পরিষদ সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির, মানবাধিকারকর্মী সাইদা, সুইট, ফিরোজ, কাজি খালেক প্রমুখ।
বক্তারা হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, ১২ এপ্রিলের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চলাকালে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করা হয়েছে। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের নেতা স্বপন শেখ, সাবু মিয়া ও জাফরুলের নেতৃত্বে একটি দল এই হামলা চালিয়েছে। তাদের নামে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বক্তারা ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর তিন সাঁওতালকে হত্যার বিচার এবং সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবু মিয়া। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। সম্প্রতি ফিলিমন বাস্কের নেতৃত্বে পকেট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে সাওতালদের রাখা হয়নি। এনিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ১২ এপ্রিল তাদের নিজেদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।
