রাজপথে সন্তান হারানো মা লড়বেন সংসদে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছোট্ট বয়সে রাজপথে নেমে জীবন দেওয়া সেই শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা এবার যাচ্ছেন সংসদে। আন্দোলনে নিজের পরিবারের চোখের সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় ছোট্ট জাবির।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের ১৩ জনের নাম ঘোষণা করে দলটি। যার মধ্যে রয়েছেন জাবিরের মা সাবেক স্কুলশিক্ষিকা রোকেয়া বেগম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালবেলা বাবার সামনে একটি হেলমেট পরে হাজির হয় জাবির। বলে, ‘আমি আর্মি অফিসার হব।’ বাবা জিজ্ঞেস করেন, ‘কেন?’ জবাবে জাবির বলে, ‘পুলিশ আমার ভাই-বোনদের গুলি করে মারছে। আমি আর্মি হয়ে পুলিশকে মারব।’ তখনকার সংবাদে বেশ আলোচিত হয়েছিল এই ঘটনা।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোমবার ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দিন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিন। এ সময় জাবিরের বাবা ও তিন চাচা পরিবারসহ বেলা ২টার দিকে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। সাথে ছিল জাবিরও। উত্তরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তর গেটে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয় জাবির। মা-বাবার সাথে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেকে থাকত সে। প্রেম বাগানের কে. সি. মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারিতে পড়ত। দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে জাবির সবার ছোট।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই জাবিরকে প্রথমে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও ওই হাসপাতালে আইসিইউ ছিল না। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাবিরের পরিবার তাকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিলে সেখানের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে তাকে দাফন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয় পরিবার। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টায় তাকে দাফন করা সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত