চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কমল

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কমছে। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম থেকে ৩৬ মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডাকলেও বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম উঠেছে কেবল একজনের। ফলে সংসদে যাওয়ার রেস থেকে ছিটকে পড়েছেন রাজনীতির প্রতিকূল মাঠে হামলা-মামলা আর জেল-নির্যাতন উপেক্ষা করে সামনে থাকা অনেক ত্যাগী নেত্রী।

গতকাল সোমবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম থেকে একমাত্র ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার নাম রয়েছে সেই তালিকায়। তিনি জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও বিএনপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা। পেশায় আইনজীবী শাকিলা ফারজানা বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির সাবেক সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তা বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। পরে দলের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, আমার প্রতি আস্থা রেখে দেশ গড়ার এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তার এই বিশ্বাস আমার জন্য গর্বের, প্রেরণার এবং দায়বদ্ধতার এক অনন্য প্রতীক। নিজ এলাকা হাটহাজারীবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাকিলা বলেন, আপনাদের আস্থা, ভালোবাসা আর অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই আমি এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩৬ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। এদের মধ্যে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মিছিলে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়া, একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া এমন অনেক নারী নেত্রী ছিলেন। বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত এই চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত আসনে একাধিক নারী নেত্রী ক্ষমতাসীন দলের হয়ে সংসদে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের।

বিগত পাঁচটি সংসদের ক্ষমতাসীন দলগুলোর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম থেকে সংসদে  নারী প্রতিনিধিত্ব কমছে। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম থেকে তিনজনকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিল। তারা হলেন ওয়াসিকা আয়শা খান, শামীমা হারুন লুবনা ও দিলওয়ারা ইউসুফ। একাদশ জাতীয় সংসদেও একই দলের ওয়াসিকা আয়শা খান ও খদিজাতুল আনোয়ার সনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদেও চেমন আরা তৈয়ব ও হাসিনা মান্নানকে সংরক্ষিত আসনের এমপি করে দলটি। অষ্টম জাতীয় সংসদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদে পাঠায় নূরী আরা সাফা ও বেগম রোজী কবিরকে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থী ভোটে জয়ী হলেও সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অনেকটা উপেক্ষিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত