শরীয়তপুর সদরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর আদালতের নির্দেশে পুরোনো একটি কবর থেকে এক ফেরিওয়ালার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রাম থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।
উত্তোলন করা মরদেহটি উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চরচটাং গ্রামের মৃত সোনাই বেপারীর ছেলে মন্টু বেপারীর (৬৬) বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেশায় তিনি একজন ফেরিওয়ালা ছিলেন।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. আশিক মাহমুদ বলেন, মন্টু বেপারী হারিয়ে গেছে থানায় ৯ এপ্রিল এমন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আমরা জানতে পারি গত ২৭ মার্চ থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি তার নানা বাড়িতে থাকতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্রেস করে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাশের বাড়ির একটি পুরোনো কবরে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি দেখতে পাই এবং কাপড় দেখতে পাই। পরে স্থানীয় সহযোগিতা ও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পুরোনো কবর খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছি। এসময় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ, থানা পুলিশ ও সিআইডি টিম উপস্থিতি ছিল।
তিনি বলেন, এঘটনায় সন্দেহজনক কয়েকজনের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, আজ মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে পুরোনো কবর থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নের চরচটাং এলাকার মন্টু ব্যাপারী তার মামাবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি ঢাকাতে ফেরিওয়ালার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, একাধিক বিয়ে করেছেন তিনি। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো স্ত্রী বা সন্তানেরা থাকেন না।
গত ২৭ মার্চ থেকে মন্টু নিখোঁজ হন। তাকে খুঁজে না পেয়ে ৯ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বোন মিনার বেগম। ওই জিডির তদন্ত করছিলেন আংগারীয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সুধানশু সরকার। সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে নিখোঁজ মন্টুর মামাবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি বড় গর্ত দেখতে পান। এরপর বাড়ির পেছনের দিকে মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবরে দুর্গন্ধ পান এবং কবরটি খুঁড়াখুঁড়ি দেখতে পান। পাঁচ বছরের পুরোনো ওই কবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে কবরের একটি অংশ খুঁড়ে দেখা হয়। তখন সেখানে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, যেখানে বাবার মরদেহ পাওয়া গেছে তার পাশের ঘরের ভ্যান চালক ফারুক মাদবর (৪০) তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৭) ছেলে পারভেজ মাদবর (২১), পলাশ মাদবর (১৮), সাইফুল মাদবর (৭) ঘটনা জানাজানির পর পালিয়েছে। তারাই আমার বাবাকে খুন করেছে। তানা হলে তারা পালাবে কেন?
তিনি বলেন, পুরোনো কবরে আমার বাবার মরদেহ আমি দেখে চিনেছি। তার পড়নের কাপড়, কম্বল ও মোবাইল দেখে।
তিনি আরও বলেন, বাবা ঢাকা কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় থাকতেন। তিনি ঢাকাতে বিভিন্ন কোম্পানির মাল ফেরি করে বিক্রি করতেন। অসুস্থ হওয়ার কারনে ঈদুল ফিতরের ৮ দিন আগে শরীয়তপুরে চলে আসেন এবং আমার ফুফুর ঘরের পাশে একটি টিন দিয়ে ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন।
লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়পত্র জমা দিলেন ৫৩ জন