সমঝোতার আভাস মিলছে না

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে!

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৮ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। পাকিস্তানের স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। তবে আলোচনার আদৌ কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যেকোনো মুহূর্তে এই সফর পুনরায় শুরু হতে পারে জানিয়েছে এক মার্কিন কর্মকর্তা। তার মতে, তেহরান মার্কিন আলোচনার শর্তাবলি বা অবস্থানের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যার ফলে এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি আপাতত থমকে গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি; যেকোনো সময় এই সফর হতে পারে। সমঝোতার বিষয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত যদি আলোচনা না হয়, তাহলে আবার যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা রয়েছে। 

এদিকে দুই দেশকে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসাতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা বললেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দুই পক্ষের আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় আজ বুধবার সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হবে ওয়াশিংটন সময় রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা)

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে না-এ কথা বারবার বলছেন ট্রাম্প। এ সময়ের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়ে যাবে-এমন কথাও বলছেন তিনি। তবে ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে না। মূলত এ অবরোধের কারণেই দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় যোগ দিতে নারাজ ইরান।তেহরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, অবরোধ তুলে নিলে আলোচনায় বসার কথা বিবেচনা করবেন তাঁরা।

আবার যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি না হলে, মার্কিন বাহিনী আবার ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের হুঁশিয়ারিও একই ধরনের-যুদ্ধক্ষেত্রে দেখানোর মতো ‘নতুন কার্ড’ রয়েছে তাঁদের হাতে।

অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ আস্থার ঘাটতি বলে মনে করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জাহিদ মাহমুদ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও চীনের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মতবিরোধ দূর করে সংলাপ হবে।

আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ইসলামাবাদে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনায় বসাতে ‘ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে’ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আল–জাজিরাকে সে কথা বলছিলেন দেশটির বিশ্লেষক নিলোফার আফ্রিদি কাজি। তাঁর আশা, আলোচনা নিয়ে হতাশা দেখা গেলেও আজ থেকে সবকিছু ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে।

তবে আলোচনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যখন জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার মার্কিন প্রস্তাবে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর স্থগিত করা হয়েছে।

ওদিকে ইরানও পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে তখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তাঁরা। আলোচনার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-দুই পক্ষই আলোচনায় যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা তাদের। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদ আলোচনা যেন সফল হয়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে দোহা। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের জনগণও অপেক্ষা করছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত