বোমা হামলা থেকে বেঁচে ফেরার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং তাকে একটি কৃত্রিম পা সংযোজন ও মুখের প্লাস্টিক সার্জারির জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুসারে, মানসিকভাবে খামেনি এখনও যোগাযোগ বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। কিন্তু তার হাতে ইতোমধ্যে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাকে আরও অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে খামেনির শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা চলাকালে ইরানি জেনারেলদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার খুব কমই যোগাযোগ হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মার্চ মাসের মূল্যায়নকে সমর্থন করে, যেখানে তিনি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির গুরুতর আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তার পিতা ও স্ত্রীর মৃত্যুর পর, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কনিষ্ঠ পুত্র মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-বিষয়ক ‘থিংক ট্যাংক’ চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সানাম ভাকিল নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘মোজতবার এখনো সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।’
সানাম ভাকিলের ভাষ্য, সম্ভবত তার (মোজতবা খামেনি) প্রতি এক ধরনের সম্মান রয়েছে। তিনি অনুমোদন দেন অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ থাকেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুসারে, সব চিঠিপত্র আদান-প্রদান সর্বোচ্চ নেতার ঠিকানায় হাতে হাতে সিলমোহর করা চিঠি হস্তান্তরের মাধ্যমে শুরু হয় এবং একই পদ্ধতিতে তা ফেরত পাঠানো হয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে খামেনির ভূমিকা রয়েছে বলেই জানিয়ে আসছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
