যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দেশের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মর্জিনা আক্তার ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব। সোমবার (২৭ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায় যান তারা।
বৃষ্টির বাবা জহিরউদ্দিন দ্বীন মোহাম্মদ চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। জেলা প্রশাসক মোবাইল ফোনে বৃষ্টির বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং যে কোন প্রয়োজনে বৃষ্টির পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন।
গত শুক্রবার ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়ায় তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় জামিলের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।
অন্যদিকে, নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোন করে এ তথ্য জানায়। তবে এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, পুলিশ তাদের জানিয়েছেন সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুইজনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং বৃষ্টির মরদেহ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের নমুনা থেকে বৃষ্টির ডিএনএর মিলও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ জামিল ও বৃষ্টিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়। পরদিন ১৭ এপ্রিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, বৃষ্টির মারা যাওয়ার বিষয়টি আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক। আমি এখানে আসলাম বৃষ্টির পরিবারের সদস্যদের বেদনা দেখার জন্য। আমি তাদের যতটুকু সম্ভব সান্তনা দিয়েছি। বৃষ্টির বাবা যেহেতু গ্রামের বাড়িতে থাকে না তাই তার সাথে আমি ফোনে কথা বললাম। আমি বৃষ্টির পরিবারের পাশে আছি। বৃষ্টির বাবা আমাকে বলেছে যদি লাশের সন্ধান পাওয়া যায় তা হলে যেন দেশে আনার জন্য সরকার সহযোগিতা প্রদান করে। আমিও তাকে আশ্বাস দিয়েছি লাশের সন্ধান পাওয়া গেলে সরকারের তরফ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫