হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংকট উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরাকের ২৪ বিলিয়ন ডলারের ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম বলেন, ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও বন্দর থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত এই করিডোর পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে। তার মতে, যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা।
সেলুম বলেন, বসরা হয়ে যদি কনটেইনার পরিবহন বাড়ে এবং তা ইরান নিয়ন্ত্রিত জলপথ এড়িয়ে চলে, তাহলে ইরাকের ওপর তেহরানের প্রভাবও কমে যাবে। তবে শুধু ইরাক নয়, অঞ্চলজুড়ে আরও কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল সক্ষমতার কাছাকাছি চলছে, সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিসিওপি পাইপলাইনও পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় একটি লাইন চালুর আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তুরস্কের জাঙ্গেজুর ও মিডল করিডোর প্রকল্পও ইরানকে পাশ কাটিয়ে ককেশাস হয়ে নতুন পথ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়নে আরও চার থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে আর একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পরিবর্তন স্থায়ী হতে পারে।
