আরিচা-কাজিরহাট জ্বালানি সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ 

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

জ্বালানী পেট্রোল সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আরিচা-কাজিরহাট রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত ৮ দিন যাবৎ বন্ধ থাকায় যাত্রীসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এতে স্পিডবোট ব্যবসা সংশ্লিষ্ট মালিক-চালক, কর্মচারী ও অন্যরা দারুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পরেছে। 

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, আরিচা ঘাটে ৬৫টি স্পিডবোট রয়েছে। প্রতিদিন এ ঘাটের ১৫টি বোট সিরিয়ালে চলাচল করে। প্রতিট্রিপে বোটে ২৭ লিটার পেট্রোল দরকার। বৃহস্পতি-শুক্রবার যাত্রী বৃদ্ধির কারণে বোট ও ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এতে, জ্বালানীর প্রয়োজন বাড়ে। প্রয়োজনের তুলনায় পেট্রোল সরবরাহ না থাকায় বোট চলাচল দারুণ ব্যহৃত হচ্ছে। 

আরিচা পয়েন্টে স্পিডবোটে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল সংগ্রহের জন্য পাম্পের উপর নির্ভর হতে হয়। এ উপজেলায় ৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ সকল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য মোটরসাইকেল ও ছোটগাড়ি দীর্ঘ লাইন চলতে থাকে। 

স্পিডবোট মালিকদের কয়েকজন জানান, চলতি মৌসুমে আরিচা ঘাট বরাবর যমুনায় বিশাল চর জেগে উঠায় এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার বৃদ্ধি পায়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের স্পিডবোটে পেট্রোল সরবরাহ দারুণ ব্যহৃত হয়।  সে তুলনায় পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি ও ঘুরপথে স্পিডবোট চলাচল করলেও পূর্ব নির্ধারিত ২১০ টাকা হারে যাত্রী ভাড়া নেয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সকল বিষয় উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনলেও বাস্তবে কোন ফল হয়নি। গত ১৯ এপ্রিল স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইঞ্জিন ও বোটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এ রুটে প্রতিটি বোটের একবার চলাচলের জন্য ২৭ লিটার পেট্রোল ও প্রয়োজনীয় মবিল দরকার হয়।  

আরিচা ঘাটে আসা যাত্রী সাগর বলেন, দ্রুত নদী পারাপারের আশায় তিনি স্পিডবোটে করে পার হওয়ার জন্য ঘাটে আসেন। তবে এসে দেখেন, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ ছাড়তে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগছে এবং পারাপারেও দীর্ঘ সময় লাগছে। স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ থাকায় জরুরি রোগী ও কর্মব্যস্ত যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

বোটচালক হাসান জানান, তেলের সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধি না হওয়ায় স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। ফলে, তাদের আয়-উপার্জন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পর একটি ট্রিপ পান, যা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। টানা আট থেকে নয় দিন বোট বন্ধ থাকায় তিনি চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পেট্রোল সংকটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় মালিক ও যাত্রী-উভয়ই নানা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

স্পিডবোট ঘাটের ম্যানেজার আতোয়ার রহমান বলেন, দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না, উপরন্তু জ্বালানির দামও বেড়েছে। আগের ভাড়ায় চলাচল করলে মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত যাত্রী ভাড়া সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং স্পিডবোট বন্ধের বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে মালিকপক্ষ এসেছিল, তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।  

তিনি আরোও জানান, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যও জানিয়েছেন, কেউ আইনবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত