মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার ইস্যুতে সংসদে তুমুল হট্টগোল

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ এএম

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ। এতে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে এ নিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন। সরকারি দলের সদস্যরাও দাঁড়িয়ে হট্টগোলোর প্রতিবাদ জানান।

স্পিকার কাউকে নিবৃত্ত করতে না পেরে একপর্যায়ে দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।’

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ‘মিশ্র ধারণা’ আছে জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও বিস্তারিতভাবে আসা উচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করা।’ ৫ আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনকে তিনি ‘ছোট করে’ দেখেন না। তবে ৫ আগস্টকে ‘বিপ্লব’ বলতে তিনি রাজি নন। বক্তব্যে তিনি ইতিহাসে অবদান রাখা বাঙালি নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের নাম স্মরণ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের পক্ষে মত দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার ছিলাম, ১৬ ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি কাউকে হত্যা করি নাই, সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে এত থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, তখনতো পুলিশ যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরাপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের পরে এত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কোনো আইনে দায়মুক্তি হওয়ার কথা না। ৫ আগস্টের পরে যদি পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।’

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নিজের (ফজলুর রহমান) অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ এক্সপাঞ্জ বা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

পরে স্পিকার বলেন, আমরা সংসদ উত্তপ্ত হোক এ রকম চাই না। ফজলুর রহমানের বক্তব্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যেও যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত