এবার এশিয়ায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভাগাভাগি করবে ইরান!

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করে কিভাবে টিকে গেল ইরান? কিংবা দেশটির জয়ের আসল রহস্য বা সক্ষমতাই বা কি। এমন গোপন সক্ষমতার বিষয়গুলো এশিয়ার সাথে শেয়ার করতে চায় ইরান। দেশটি এবার এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও উন্নত সমরাস্ত্র ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত। দেশটির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিক এমনটা জানিয়েছেন। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে তালাই-নিক বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ এবং বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রর পরাজয়ের অভিজ্ঞতাগুলো এই সংস্থার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিনিময় করতে আগ্রহী। বৈঠকের পাশাপাশি রেজা তালাই-নিক সম্প্রতি রাশিয়া ও বেলারুশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে মস্কো ও মিনস্কের কর্মকর্তারা তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তাদের দৃঢ় ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে সাথে একটি যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এই সময়ে দেশটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং একই সাথে নিজেদের আকাশসীমায় মাঝে মাঝে মার্কিন আকাশ লক্ষ্যবস্তু, প্রধানত ড্রোন, ভূপাতিত করে। এর মধ্যদিয়ে তেহরান কার্যত তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

সিবিএস নিউজ একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান এখনও এমন সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ও সংশ্লিষ্ট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক এখনো অক্ষত রয়েছে।

তারা আরও জানান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশ এখনও সক্রিয়, যার মধ্যে দ্রুতগতির আক্রমণ নৌযানও রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিমানবাহিনীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখনও কার্যকর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) একটি মূল্যায়নও এ দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে যে ইরানের বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বা তাদের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন।সংস্থাটির প্রধান মেরিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস অ্যাডামস বলেন, ‘ক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও একমুখী হামলাকারী ড্রোন রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

’যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা থেকেও বোঝা যায়, তাদের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে- এমন দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। সংঘাত চলাকালে ইরান তাদের প্রতিপক্ষ-সম্পৃক্ত জাহাজগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে দেয়নি।যুদ্ধবিরতি এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়।

কিন্তু এতে তেমন ফল হয়নি। বরং ইরান ওই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে এবং অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করা অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। সব মিলিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে-এমন ইঙ্গিত মিলছে। একই সঙ্গে এই যুদ্ধের বৃহত্তর প্রভাবও এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত