অবরোধের মুখে তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে ইরান: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধের মাত্রা আরও কঠোর হওয়ায় দেশটি শিগগিরই তাদের খনিজ তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি এবং দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখা নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করতে ওয়াশিংটন বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‌‌‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি বা অর্থনৈতিক তাণ্ডবের মাধ্যমে মার্কিন অর্থ বিভাগ ইরানের আন্তর্জাতিক শ্যাডো ব্যাংকিং অবকাঠামো, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সুযোগ, অবৈধ জাহাজ বহর (শ্যাডো ফ্লিট) এবং অস্ত্র সংগ্রহের নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।’

বেসেন্ট উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার পাশাপাশি চীনের সেইসব অনিবন্ধিত ‘টি-পট’ রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোর ওপরও আঘাত হানবে, যারা ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করে আসছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে ইরান সরকারের কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই পদক্ষেপে ইরানে মুদ্রাস্ফীতির হার দ্বিগুণ হয়েছে এবং তাদের মুদ্রার মানের দ্রুত পতন ঘটেছে।’

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (ম্যাক্সিমাম প্রেশার) প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। বেসেন্ট জানিয়েছেন, এর ফলে ইরানের তেল বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খারাগ আইল্যান্ড’ এখন মজুত ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে। তেল রপ্তানি করতে না পারায় এবং মজুত করার জায়গা না থাকায় ইরান সরকার এখন উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলী অবরোধের ফলে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বেসেন্ট। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে ইরানের তেল অবকাঠামো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত