বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয় প্রশ্ন আজহারের

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে, সে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল। অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে একাত্তর সালে। মুক্তিযুদ্ধের দল কীভাবে বিএনপি হতে পারে? তাহলে এটা কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছে, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রুপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছে।’ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন এ টি এম আজহার।

বক্তব্যের শুরুতে আজহার উল্লেখ করেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে তার মুক্তির পথ সুগম হয়েছে। এ জন্য জুলাই যোদ্ধা ও যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উল্লেখ করে আজহার বলেন,  ‘জুলাই আন্দোলন হঠাৎ করে হয়েছে, এটা যেমন ঠিক নয়; তেমনি একটা সরকার যাবে, আরেকটা সরকার আসবে, সে জন্যও এ আন্দোলন ছিল না। একটা পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল। এটি ছিল বলেই আমাদের ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আমরা সুপারিশ দাঁড় করিয়েছিলাম, যার মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ৭০ শতাংশ রায় দিয়েছে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে আজহার বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তিনটি কারণে। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি ঐক্যের রাজনীতি করেছিলেন এবং তিনি আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। তার ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধিপত্যবাদমুক্ত হয়। বেগম খালেদা জিয়া অমর হয়ে থাকবেন। তিনি বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি জনগণের কাছে খেতাব পেয়েছেন আপসহীন নেত্রী। তিনিও ঐক্যের রাজনীতি করেছেন।

আজহার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে, বিশেষ করে ১৬ বছরে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি কেউ নির্যাতনের শিকার হয়নি। আর কোনো দলের প্রধান নেতা থেকে আরম্ভ করে সেক্রেটারি জেনারেল থেকে আরম্ভ করে ১১ জন নেতাকে জেলখানায় ফাঁসি দিয়ে এবং বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়নি। জামায়াত প্রমাণ করেছে, তারা দেশের জনগণকে ভালোবাসে। তারা ভয় পেয়ে জীবন রক্ষা করার জন্য, সুন্দর জীবনযাপনের জন্য কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যায়নি। ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, দেশ ছাড়েননি।

দেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াতের এমপি মুজিবুরের : বাংলাদেশে মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। দেশে ইসলামি আইন চালু ও ইসলামি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি জাতীয় সংসদে থাকা মাদ্রাসা থেকে পাস করা এমপি এবং সংসদের বাইরে যত মাযহাব যুক্ত ওলামায়ে কেরাম আছে, এমনকি আহলে হাদিস আছে, সব ওলামাকে নিয়ে একটি ইসলামি বোর্ড গঠনের জন্যও বলেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা (বিএনপি) আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন, বাংলাদেশে মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ লবিতে ঢোকার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং ইমান এটা দেখার পরে মনে হয়, আল্লাহর প্রতি যদি ইমান থাকে তাহলে তো আমাদের আইনের উৎস আল কোরআন। কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।’

জামায়াতের নায়েবে আমির সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রক্ষমতা পাবে তারা দেশে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করে দেবে এবং জাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। ভালো কাজ করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে, খারাপ কাজ বন্ধ করে অশান্তির আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করবে।’

কিন্তু দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ এসেছে ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার এতগুলো সরকার এলেও জাতীয় সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করেনি উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ দেশে কোরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত