নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে হঠাৎ লোকালয়ে চলে আসে একদল বুনো হাতি। পরে মানুষের তাড়া খেয়ে বনে ফিরে গেলে হাতির পাল। তবে হাতির পালটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট এলাকা দিয়ে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে একদল বুনো হাতি।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। হঠাৎ করে দেখি নদী পার হয়ে হাতির পাল্টা আমাদের ফসলি জমির দিকে আসছে। আমরা গ্রামের সবাই মিলে চিৎকার শুরু করি এবং হাতিগুলোকে তাড়া দেই। সামনেই আমাদের বোরো ধান কাটার সময়, এখন যদি হাতিগুলো ক্ষেতে ঢুকে পড়ে তবে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। প্রতিবছরই এই সময় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০টি হাতি ছিল, যার মধ্যে তিনটি ছিল হাতির শাবক। জানমাল ও ফসল রক্ষায় দ্রুত লাঠিসোঁটা, হ্যান্ড মাইক নিয়ে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাদের ধাওয়া ও চিৎকারে হাতির দলটি সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে ভবানীপুর পাহাড়ের গহীন অরণ্যে ফিরে যায়। এই সময় নদীর তীব্র স্রোতে ছোট একটি হাতির শাবক মাঝে নদীতে আটকে যায়। পরে মা হাতি সবাইকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর এই মৌসুমে বোরো ধান পাকার সময় হলেই খাদ্যের সন্ধানে ভারতীয় পাহাড় থেকে বুনো হাতিগুলো নেমে আসে। এতে প্রতিরাতেই সীমান্তে চলে মানুষ ও হাতির লড়াই।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং’ এর সহ-সভাপতি সুমন রায় বলেন, গেল ৫-৬ বছর ধরে নিয়মিত এই মৌসুমে হাতির পাল বাংলাদেশে আসে। মূলত খাদ্যের সন্ধানেই হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে। সীমান্তে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দিন দিন কমে আসায় মানুষ ও প্রাণীর এই দ্বন্দ্ব দিন দিন বাড়ছে।
দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক বলেন, সীমান্ত একটি হাতির পাল এসেছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা খোঁজ খবর রাখছি এবং কোন ধরনের যেন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সে দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বুনো হাতির কারণে ফসলী জমির ক্ষয়ক্ষতি হলে আমরা সেগুলো খোঁজখবর নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করবো।