কক্সবাজারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে গোলটেবিল বৈঠক

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘পলিসি ডেভেলপমেন্ট ফর গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস অফ কক্সবাজার’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এনএসইউ’র সিন্ডিকেট হলে বুধবার (২৯এপ্রিল)  আয়োজিত এই বৈঠকে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে কক্সবাজারকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্যে রূপান্তরের টেকসই পথ নিয়ে আলোচনা করেন। এনএসইউর সেন্টার ফর সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এনএসইউ সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স সেন্টার, এনএসইউ এবং এনএসইউ’র মার্কেটিং অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারপার্সন সায়েমা শাহীন সুলতানা। সেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মার্কেটিং অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার মো. নাহিন মামুন। 
বিশিষ্ট আলোচকদের মধ্যে ছিলেন আখতারুজ্জামান খান কবির, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন; মো. মফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নভো এয়ার; এনএসইউ’র স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দেব; ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান; ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও সেন্টার ফর ট্যুরিজম স্টাডিজের (সিটিএস) সাবেক চেয়ারম্যান জামিউল আহমেদ; এবং দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম। সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউ সোশ্যাল বিজনেস সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক রাফিউদ্দিন আহমেদ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সায়েমা শাহীন সুলতানা কক্সবাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান নিশ্চিত করা, নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনে গুরুত্ব দিতে হবে।

এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, আমাদের বর্তমান পর্যটনের অবস্থাকে বাস্তবতার নিরিক্ষে বিবেচনায় নিয়ে আগাতে হবে। আপাতত কক্সবাজারে অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাড়াতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানে নিতে প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারকে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে এবং বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ড. খন্দকার মো. নাহিন মামুন কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ ও বিপণনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং একটি গন্তব্যকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারকে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে আলাদা করে তুলতে শক্তিশালী, তথ্যভিত্তিক ব্র্যান্ডিং কৌশল প্রয়োজন।

সঞ্চালক অধ্যাপক রাফিউদ্দিন আহমেদ পর্যটন খাতের বিস্তৃত সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুপরিকল্পিত পর্যটন ইকোসিস্টেম অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে পারে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত