বিয়ের কথা শুনে চলাচলের রাস্তা কেটে গোয়ালঘর নির্মাণ

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে বিয়ের কথাবার্তা চলায় চলাচলের একটি রাস্তা কেটে গোয়ালঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সঙ্কর দাস ও তার ছেলে লাল মোহন দাসের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আমতলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলাচলের ঐ রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়। 

শুক্রবার (১ মে) সকালে হলদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিরাম দাস, কালাচাঁন দাস ও সুখলাল দাস, এই তিন পরিবারের যাতায়াতের জন্য এক যুগ আগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। ওই রাস্তা কেটে সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন সঙ্কর দাস ও তার ছেলে লাল মোহন দাস। 

নগেন চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, কালাচাঁন দাসের মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। আগামী সোমবার ছেলে পক্ষ মেয়ে দেখতে আসার কথা রয়েছে। বিষয়টি জেনেই পরিকল্পিতভাবে চলাচলের একমাত্র পথটি কেটে ফেলা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমি মাপঝোঁক করে তিন অংশীদার, বিশ্বেশ্বর দাস, কালীচরণ দাস ও বলরাম দাসের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়। সে সময় সঙ্কর দাস ও লাল মোহন দাস সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে তা অমান্য করে পুনরায় রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাতায়াতের রাস্তা কাটার কথা স্বীকার করেন সঙ্কর দাস। 

স্থানীয় শালিস মোহাম্মদ আজিজ ডাকুয়া বলেন, আমরা সালিশে উপস্থিত ছিলাম। আমিনের মাধ্যমে জমি মেপে তিন অংশীদারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন শুনছি চলাচলের রাস্তা কেটে সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী অভিরাম দাসের স্ত্রী শিখা রানী বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র পথটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এই পথ দিয়েই ধান, চালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করা হতো। এখন আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

এ বিষয়ে আমতলী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত