ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শুক্রবার পেন্টাগন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধের জেরে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। গত বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যেসব ইউরোপীয় দেশের পর্যাপ্ত সমর্থন তিনি পাননি, সেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে আরও বেশি সহায়তা না করার জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আবার সচল করতে নৌবাহিনী মোতায়েন না করায় মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় প্রকাশ্যেই ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। বর্তমানে জার্মানিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ হাজার সেনার মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের ফলে নিজ দেশে ফিরে যাবে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন বলেছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ হবে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের নেতৃত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে এবং যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ডেমোক্রেট দলীয় আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্রেট সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আমাদের মিত্রদের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্টের মেজাজের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জোটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্র্যাডলি বোম্যান বলেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কেবল ক্রেমলিনের আগ্রাসনই কমায় না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতেও ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে সহায়তা করে। এই প্রত্যাহার সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজের প্রথম মেয়াদেও জার্মানি থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে সেই পরিকল্পনাটি ২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেন। জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপ ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর, রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এবং ল্যান্ডস্টুলের চিকিৎসাকেন্দ্র অন্যতম। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের আহত সেনাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এসব স্থাপনায়। এ ছাড়া দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন রয়েছে।