ঈদের নাটক নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৬:১০ এএম

প্রতিবারের মতো এবারও এক ঈদের রেশ না কাটতেই শুরু হয়ে যায় আরেক ঈদ নাটকের শুটিং। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ছোটপর্দার দর্শক ও নির্মাতাদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বরাবরের মতো এই ঈদেও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবে প্রায় পাঁচ শতাধিক নতুন নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিশাল সংখ্যার আড়ালে নাটকের মান নিয়ে বরাবরের মতোই শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশিষ্টজন ও সাধারণ দর্শকরা। এবারের ঈদেও জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, মুশফিক আর ফারহান, তৌসিফ মাহবুব, জোভান, নিলয় আলমগীর, মেহজাবীন চৌধুরী, হিমি, তটিনী, কেয়া পায়েলের মতো তারকাদের দখলে থাকছে অধিকাংশ নাটক।

অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব তার কাজের বিষয়ে জানান, ‘এবার সংখ্যা নয়, মানের দিকে বেশি নজর দিয়েছি। দর্শক এখন আর শুধু সস্তা বিনোদন চান না, তারা গল্পে গভীরতা খোঁজেন। ঈদুল আজহার কাজগুলোতে রোমান্টিক ঘরানার বাইরেও কিছু জীবনমুখী চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। আশা করি, দর্শকরা নিরাশ হবেন না।’ মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদে আমার কাজের সংখ্যা বরাবরের মতোই সীমিত। আমি এমন কিছু গল্প বেছে নিয়েছি যা দর্শকদের ভাবাবে। ওটিটি আর ইউটিউবের এ যুগে টিকে থাকতে হলে ভালো চিত্রনাট্যের বিকল্প নেই। এবার নারীপ্রধান ও শক্তিশালী মেসেজ আছে এমন কাজে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি।’

প্রতি ঈদের মতো এবারের ঈদেও অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান, তানজিন তিশা, তৌসিফ মাহবুব, জোভান, নিহা, তটিনীর নাটকে দর্শক আগ্রহ বেশি থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে। গত ঈদেও অসংখ্য নাটকের ভিড়ে তাদের নাটকেই ভরসা খুঁজেছিলেন দর্শকরা। তাদের বেশ কিছু নাটক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পাশাপাশি ইউটিউবেও ট্রেন্ডিংয়ে জায়গা করে নেয়। এবারও তেমনটাই আশা করছেন এ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সেই জাগো থেকে নাটক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান বলেন, ‘ঈদুল আজহায় আমার নাটক নিয়ে তরুণ দর্শকদের আলাদা একটা উন্মাদনা থাকে। ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের কথা মাথায় রেখে আমি চেষ্টা করি মাটির কাছের গল্প তুলে ধরতে।’

আরেক তরুণ অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘এবার কমেডির চেয়ে সিরিয়াস এবং ফ্যামিলি ড্রামায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। দর্শক এখন গল্পে নতুনত্ব চায়। জনপ্রিয় তারকাদের পাশাপাশি ভালো গল্পের জয় হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ তানজিন তিশা বলেন, ‘প্রতি ঈদেই আমরা নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এবার প্রস্তুতির সময়টা একটু বেশি পেয়েছি, তাই কাজের মান নিয়ে আমি আশাবাদী।’

অন্যদিকে কয়েক বছর আগের টিভি নাটকের শীর্ষ অভিনেতা  আফরান নিশোকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বেশি থাকলেও ঈদের নাটকে কমই দেখা যাবে এই তারকাকে। কারণ নিশো এখন সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন।  নিশো বলেন, ‘যদিও এবার বড় পর্দায় আমার ব্যস্ততা বেশি, তবে ছোট পর্দার দর্শকদের প্রতি আমার টান সবসময়ই থাকে। নাটকের মান নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়, তা দূর করার দায়িত্ব আমাদেরই। নির্মাতা ও শিল্পীদের উচিত মানহীন কাজে আপস না করা।’

বিগত ঈদের মতো এবারও টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়ে ইউটিউব এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে চোখে পড়ার মতো। সিএমভি, ধ্রুব টিভি এবং সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের মতো ইউটিউব জায়ান্টরা ঈদ মাতাতে বড় বাজেটের নাটক নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন। অন্যদিকে, বঙ্গ বিডি এবং অন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো প্রিমিয়াম কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকছে।

তবে নাটক নির্মাণের পেছনে থাকা পর্দার পেছনের কারিগর-ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যান এবং এডিটররা বলছেন ভিন্ন কথা। ঈদের আগে মাত্র কয়েক দিনে কাজ শেষ করার চাপে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা শুটিং করে এবং পরের দিনই এডিট শেষ করে প্রচারে পাঠানোর ফলে ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থেকে যায়। এটি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ দর্শকদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, নাটকের ট্রেলার দেখে আকর্ষণীয় মনে হলেও মূল নাটকের গল্পে কোনো গভীরতা থাকে না। সংখ্যায় পাঁচশ ছাড়িয়ে যাওয়াটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক হলেও শৈল্পিকভাবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত