অস্ট্রেলিয়ার পেস ভীতিতে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

ডারউইনের সবুজ উইকেট, সামনে প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্ক-জশ হ্যাজলউডের পেস-ত্রয়ী। বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য পরীক্ষাটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, ম্যাচ শুরুর আগেই তার আভাস মিলেছে। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছে স্বাগতিকদের ভয়ংকর পেস আক্রমণ সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ।

টিআইও স্টেডিয়ামের উইকেটে ঘাসের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এমন উইকেট পেসারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়াও সেই সুবিধা নিতে প্রস্তুত। ম্যাচের আগের দিনই নিজেদের একাদশ ঘোষণা করেছে স্বাগতিকেরা। সেখানে অধিনায়ক কামিন্সের সঙ্গে নতুন বল হাতে থাকছেন স্টার্ক ও হ্যাজলউড। স্পিনে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ন্যাথান লায়ন। নামগুলোই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে যথেষ্ট। অবশ্য ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সতীর্থদের এমন বার্তাই দিয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। অনুশীলনের সময় তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘পেসারদের বিপক্ষে ভালো করা তখনই সম্ভব হবে, যখন ভয় কাটাতে পারবি।’

কিন্তু ভয় কাটানো যতটা সহজ করে বলা যায়, কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজলউডের সামনে সেটি বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তার ওপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সাম্প্রতিক চিত্রও খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিভাগে ধারাবাহিকতার অভাব। মুমিনুল হক বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ব্যাটেও চেনা ছন্দ নেই। ওপেনিং জুটিতেও ধারাবাহিকতার অভাব। সাদমান ইসলাম দায়িত্ব নিতে পারছেন না। লিটন ফেরায় অবশ্য কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও মনে করছেন, তার উপস্থিতি দলের ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াবে। গতকাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘লিটন আসায় অবশ্যই ব্যাটিংয়ের গভীরতা বেড়েছে। ধারাবাহিকতা আছে তার। এই টেস্টে আশা করি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করবে। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’

তবে প্রস্তুতির শেষ পরীক্ষাটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। অস্ট্রেলিয়া সফরে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। তিন দিনের সেই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারে সফরকারীরা। টেস্টের আগে এমন ব্যাটিং-ধস স্বাভাবিকভাবেই        দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। শান্ত অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নিয়ে ভাবতে চান না, ‘সেটা প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল, এমন হতেই পারে। আমরা আগেভাগে এসেছিলামই নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য। আমি মনে করি, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। ভালো ক্রিকেট খেলার ব্যাপারেও আশাবাদী।’

বাংলাদেশ দলের টিম মিটিংয়েও গতকাল আলোচনার বড় জায়গাজুড়ে ছিল নিজেদের ব্যাটিং ও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং। কারণ দুই দলের শক্তির জায়গার পার্থক্যটা পরিষ্কার। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং শক্তিশালী, কিন্তু তাদের বোলিং আক্রমণ আরও বেশি ভয়ংকর। বিশেষ করে ডারউইনের ঘাসে ঢাকা উইকেট পেসারদের আরও বেশি ভয়ংকর করে তুলবে। শান্তও সেটা মেনে নিচ্ছেন, ‘উইকেটে ঘাস আছে। মনে হয় বোলিং-ব্যাটিং দু-দিকেই সহায়তা থাকবে, তবে বোলাররা একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে।’ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং নিয়ে তার সরল স্বীকারোক্তি, ‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অনেক শক্তিশালী। তাদের বোলিংই বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে।’

এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের খুঁজতে হবে নিজেদের পথ। প্রথম ঘণ্টায় নতুন বল সামলানো, স্টার্কের গতি ও বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল, হ্যাজলউডের নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং কামিন্সের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং, সবকিছুর বিপরীতেই দাঁড়াতে হবে মুশফিক, মুমিনুল, লিটনদের।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের শেষ টেস্ট হয়েছিল ২০০৩ সালে। ২৩ বছর পর আবার সেই দেশে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আগের সফরের স্মৃতিও খুব সুখকর নয়। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে  ইনিংস ব্যবধানে হারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সে দলের অন্যতম সদস্য হাবিবুল বাশার এখন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক হয়ে দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। পুরনো সেই স্মৃতি অবশ্য বর্তমান দলকে ভীত করছে না বলে জানালেন শান্ত। বরং বাশারের সঙ্গে কথা বলেই আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন বলে দাবি তার, ‘বাশার ভাইয়ের সঙ্গে এটাই কথা হচ্ছিল যে, ২৩ বছর আগের দল আর নেই। তারও বিশ্বাস আছে দলের ওপর। অনুশীলন ম্যাচের যে কথা বললেন, এমন ম্যাচ আগেও খেলেছি। খারাপ দিন যেতেই পারে। বিশ্বাস করি এরকম দিন টেস্ট ম্যাচে আসবে না, এই বিশ্বাস আছে।’

সেই বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় জোগান এসেছে মাত্র দুই মাস আগে। গত জুনে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নয়, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই সিরিজ জয় শান্তদের মনে নতুন বিশ্বাস তৈরি করেছে। এনিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। এবারই প্রথম হারালাম, তাও স্পোর্টিং উইকেটে খেলে। অবশ্যই আত্মবিশ্বাস পাব। তবে এখানে ভিন্ন সংস্করণে খেলা, ভিন্ন জায়গায়। আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে আমরা প্রস্তুত।’

বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ নিয়েও আশাবাদী শান্ত। নাহিদ রানা না থাকলেও তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি, ‘আমাদের বোলিং ইউনিট দেখুন, তাসকিন আছে, হাসান আছে। হাসান কাউন্টিতে দারুণ পারফর্ম করে এসেছে। বোলিং দিয়ে এই কন্ডিশনে আমরা ওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত