দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে থাকা মেগাসিটি ঢাকার বাতাসের মানে কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সাধারণত বৃষ্টি হলে বায়ুমণ্ডলে থাকা ধূলিকণা পরিষ্কার হয়ে বাতাসের মান উন্নত হয়, কিন্তু এবার টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পরও ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক পর্যায়েই রয়ে গেছে। সোমবার (৪ মে) সকালেও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় উপরের সারিতেই নাম রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানীর।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ সাতসকালে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম। এ সময় ঢাকার বায়ুমানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১২৩। বায়ুমান সূচক অনুযায়ী এই স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। বৃষ্টির পর এই পরিস্থিতি নগরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্য উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই সময়ে দূষণের বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ, যার স্কোর ২৫৩ অর্থাৎ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা (স্কোর ১৫৬)। এছাড়া ১৪৩ স্কোর নিয়ে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই তৃতীয় এবং ১৩২ স্কোর নিয়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
বায়ুমান বিশেষজ্ঞরা জানান, আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে স্কোর থাকলে তা বাসিন্দাদের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সাধারণ নগরবাসীকেও বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টি হওয়ার পরেও বাতাসের এই নিম্নমুখী মান মেগাসিটির পরিবেশ রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
