সায়াটিকা ও ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪১ এএম

সায়াটিকা নার্ভ মানবদেহের সবচেয়ে বড় স্নায়ু। স্নায়ুতন্ত্রগুলো ৪র্থ এবং ৫ম কটি দেশীয় কশেরুকা থেকে শুরু হয়। সায়াটিকা নার্ভ পায়ের পেছনে এবং হাঁটুর পেছনের অংশে উল্লম্বভাবে নিচের দিকে চলে। এটি হ্যামস্ট্রিং পেশি এবং পায়ের মধ্যে শাখা হয়। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সায়টিকায় ভুগে থাকেন। ৩০ থেকে ৬০ বছরে সাধারণত এই রোগে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

কারণ : সায়াটিকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হার্নিয়েটেড ডিস্ক যা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও আরও অনেক কারণে সায়াটিকা হয়ে থাকে যেমন পেলভিক স্নায়ুর ওপর হাড়ের স্ফীতির চাপ, স্পাইনাল ক্যানাল স্টেনোসিস, পাইরিফরমিস সিনড্রোম বা নিতম্বের পেশির টান।

কোনো কোনো সময় বিভিন্ন আঘাত টিউমার বা কিছু সংক্রমণের কারণে বা গর্ভাবস্থায় এ রকম সমস্যা হতে দেখা যায়।

সায়াটিকার লক্ষণ

 লালভাব এবং কোমলতা ছাড়াই মেরুদ-ের পেছনে ফুলে যাওয়া।

 আক্রান্ত পায়ের দুর্বলতা কাঁপুনি অসাড়তা এবং ঝিনঝিন বা অবশ ও জ্বালাপোড়া ভাব দেখা যায়। এটি এক বা উভয় পায়েই হতে পারে।

 রাতের বেলা ব্যথার তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এ সময় হাঁটাচলা বা পা বাঁকাতে আরও বেশি কষ্ট হয়।

 পিঠের নিচের দিকে বিশেষ করে কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা চলে যায়।

 নিতম্বের অঞ্চলে ব্যথা এবং উরুর পেছনে হাঁটু এবং পায়ের পেছনের দিকে প্রসারিত হওয়া সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগ।

 কোমর ব্যথার সঙ্গে পা ও পায়ের আঙুলে ব্যথা এবং গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

 এমনকি চলাচলের সময় হাঁচি ও কাশির সময়েও এই লক্ষণগুলো বেশি দেখা যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় : শারীরিক পরীক্ষার সময় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনার পেশির শক্তি পরীক্ষা করে থাকেন। অনেক সময় পায়ের আঙুল বা হিলের ওপর হাঁটতে বলা হয়ে থাকে এবং স্কোয়াটিং অবস্থান থেকে উঠতে এবং আপনার পিঠের ওপর শুয়ে পা-গুলো সোজা করে তুলতে বলা হতে পারে। এ সময় সাধারণত ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তীব্র ব্যথা হলে যদি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হয় তাহলে তাদের জন্য বিভিন্ন রকম টেস্ট ও পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে; যেমন এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং এমজি বা ইলেক্টোমাইলোগ্রাফি।

চিকিৎসা : সায়াটিকা সমস্যায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগের প্রয়োজন অনুযায়ী হিট ও কোল্ডথেরাপি ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন ফিজিক্যাল এজেন্ট টাইপিং এমএফআর, সায়াটিক নার্ভ মবিলাইজেশন নার্ভের গ্লাইডিং এবং বিভিন্ন ইলেকট্রো থেরাপি দিয়ে থাকেন। এছাড়া এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় যেমন সামনের দিকে ঝুঁকে কোনো ভারী কাজ করা যাবে না। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত ওজন বহন করা থেকে বিরত

থাকতে হবে। কিছুটা শক্ত বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। হাঁটাচলা বা ভ্রমণের সময় লাম্বার করসেট বেল্ট ব্যবহার করতে হবে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে এবং শেখানো নিয়মে ব্যায়াম খুব দ্রুতই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত