তুরস্কে বিমান বদলে 'বাড়তি ঝুঁকিতে' ছিলেন ট্রাম্প

‘আমি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলি। তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। তারা যা বলে, আমাকে সেটাই করতে হয়।’

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

তুরস্কে জরুরি পরিস্থিতিতে গোপনে বিমান পরিবর্তন করার পর তিনি ‘আরও বেশি ঝুঁকিতে’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশে এই পরিবর্তন করা হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত যে বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন, সেটি মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়েও কম নিরাপদ ছিল বলে জানান তিনি।

ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে থাকার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে নিয়ে বিভিন্ন ট্রোল ও 'মিম' ছড়িয়ে পড়ার একদিন পর—নিজের সাহসী ও নির্ভীক নেতার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পছন্দ করা এই প্রেসিডেন্ট বুধবার (১২ আগস্ট) সংবাদ মাধ্যমকে জানান—তিনি কেবল সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশই অনুসরণ করছিলেন। 

 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলি। তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। তারা যা বলে, আমাকে সেটাই করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা সেখানে একটি হুমকি ছিল।আমার কাছে প্রতিনিয়তই এমন অনেক হুমকি আসে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ওই বিমানে আছেন মনে করে যে বিমানটি যাত্রা করেছিল, সেটিতে থাকা ট্রাম্পের সহকারী এবং ভ্রমণরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, আমার মতে, আমি যে বিমানে ভ্রমণ করেছিলাম সেটি আসলে আরও বেশি ঝুঁকিতে ছিল। কারণ আমার মনে হয়, তারা ওই বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।

হোয়াইট হাউস এই পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ করেনি এবং সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের আগ পর্যন্ত ঘটনাটি গোপনই ছিল। 

সেই সময়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক থেকে ব্রিটেনে যাচ্ছেন। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার জানায়, ট্রাম্প বিমানে ওঠার পরপরই গোপনে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে বেরিয়ে যান এবং ব্রিটেনের ফ্লাইটের জন্য অন্য একটি বিমানে ওঠেন।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন সংস্কার করা একটি জেটে করে আঙ্কারা গিয়েছিলেন। তবে সেখান থেকে প্রস্থানের সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে জানান যে, তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। তার এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

তুরস্কের সীমান্তবর্তী দেশ ইরানের সাথে যখন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল, ঠিক তখনই নতুন বিমানটি নিয়ে এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সফরে যান তিনি। তবে বিমানটির দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করায় এর ব্যয় ও নিরাপত্তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত