ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ মন্ত্রীদের

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘জনগণের সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৃথক অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এসব নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে বেরিয়ে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রত্যেকে কমপক্ষে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে পাবেন। তাদের তিন মাসব্যাপী সহায়তা দেবে সরকার। ক্ষতি বিবেচনায় এ সহায়তা আরও বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন,  ‘জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সার, বীজ বা কৃষিপণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আলুর বাম্পার ফলন হলেও অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে কোন জেলায়, কোন ইউনিয়নে, কত হেক্টর জমিতে কোন জাতের আলু চাষ হবে, তার তথ্য কৃষক জানতে পারবেন। কতজন কৃষক ইতিমধ্যে আবাদ করেছেন এবং কতটুকু আবাদ বাকি আছে তা-ও জানা যাবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এটি কোটাব্যবস্থাতেও যেতে পারে। পরিকল্পিত উৎপাদন হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও সঠিক দামে পণ্য কিনতে পারবেন। এতে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।’

সীমান্ত দিয়ে গরু আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, সেখানে প্রকৃত ক্রেতার তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ গরু আসত। বিজিবিও এ বিষয়ে নজরদারি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে গরু আসবে না। দেশে গরু উদ্বৃত্ত নেই, তবে ঘাটতির আশঙ্কাও নেই। খামারিরা বাজারদর অনুকূলে না থাকলে গরু বিক্রি না করে আরও কিছুদিন পালন করতে পারেন। ফলে অনেক সময় উদ্বৃত্তের ধারণা তৈরি হয়।

কাঁচা চামড়া যেন নষ্ট না হয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির : আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করতে ডেপুটি কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দামের অসন্তোষের কারণে মানুষ অনেক সময় চামড়া ফেলে দেয়। কারণ, নষ্ট হয়ে গেলে চামড়ার কোনো মূল্য থাকে না। তাই পচন রোধে সরকারি খরচে চামড়ায় লবণ ব্যবহার করা হবে।

জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমামদের চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সিদ্ধান্ত বিমানমন্ত্রী : দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের চেহারা বদলে দিতে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও বগুড়াসহ দেশের পরিত্যক্ত আটটি বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে,  বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশকে ঢেলে সাজাতে সরকার আরও ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে এবং বেশ কিছু বিমান লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

একই বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি দেশজুড়ে নতুন করে প্রতœতত্ত্ব অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের পুরনো শিল্পকলা ভবন এবং লাইব্রেরিগুলো দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। সম্মেলনের এই সেশনে পর্যটন, বিমান ও সংস্কৃতি খাতের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না জোনায়েদ সাকি : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না। উন্নয়ন কর্মকা- আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।’

সাকি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেকগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করছে।’

উন্নয়ন কর্মকা- গতানুগতিক ধারায় না চালানোর পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের প্রকল্প এখনো চলমান থাকা বা বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমুখী, সাশ্রয়ী এবং সময়াবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত