রাজধানীর মতিঝিলে একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহম্মদকে হঠাৎ এক দুপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীরা। এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় ও খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয় তারা। এরপর থেকে আরও চাঁদা দাবি করে আসছিল তারা।
এ বিষয়ে সোমবার ভুক্তভোগী রাসেল মতিঝিল থানায় অভিযোগ দিলে অভিযানে নামে পুলিশ। ওই রাতেই চাঁদাবাজ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সবুজবাগ থেকে আনোয়ার সরকার ও জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু। তাদের কাছে থেকে চাঁদদাবী কাজে ব্যবহৃত মোবাইল সিম ও ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী দেশ রূপান্তরকে এতথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মতিঝিল মেট্রোস্টেশন সংলগ্ন এ.কে. খান ভবনে ভুক্তভোগী রাসেল আহম্মদের একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজ চক্রটি তাকে নজরে রাখছে। সর্বশেষ গত মার্চের ১০ তারিখ তাকে হঠাৎ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায়।
এসি হুসাইন মো. ফারাবী জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রাসেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবী করে চক্রটি। পরে রাসেল চাঁদা দিতে পারায় তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নন্দীপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। এছাড়া তার মোবাইল, ল্যাপটপ, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নেয়। রাসেলের ফোন দিয়ে পরিবারের কাছে টাকা চাই এবং তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা বিকাশে নিয়ে এসে দেয় অপহরণকারীদের। অপহরণ কারীরা মারধর অব্যাহত রাখলে তিনি তার পরিচিত আরও দুজনের কাছ থেকে ৪৫ হাজার নিয়ে এসে তাদের দেয়।
এসি জানান, ভুক্তভোগীর ফোনে টাকা আসা মাত্রই অপহরণ কারীরা তাদের বিকাশ নাম্বারে সেন্ডমানি করে নেয়। এছাড়া তার ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড নিয়েও টাকা তুলে নেয়। সর্বশেষ আর টাকা দিতে না পারায় তিনটি নন-জুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সাক্ষর নিয়ে নেয়। এই ঘটনা কাউকে প্রকাশ না করার শর্তে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোড়ান টেম্পুস্ট্যান্ডে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনা পুলিশকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
তিনি জানান, তাদের কথামতো চুপচাপ থাকেন ভুক্তভোগী রাসেল। কিন্তু সম্প্রতি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে ফের হুমকী-ধামকি দেওয়া হয়। এছাড়া আরও পাঁচ লাখ টাকা না দিলে, স্ট্যাম্পগুলো বিভিন্ন দালাল পার্টিকে দিয়ে মামলা করিয়ে হেনস্তা করা হবে। অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ক্রমাগত হুমকিতে অতিষ্ট হয়ে সোমবার মতিঝিল থানা একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি চারজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।