বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে হাওড়ার উদয়পুর ও রাজারহাট নিউ টাউনে তৃণমূল সমর্থকরা দুই বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পদ্মশিবিরের। আর বীরভূমের নানুর এবং কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূলের দুই সদস্যের মৃত্যুর জন্য বিজেপি কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়াও বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া, বাঙ্কুরাসহ একাধিক জায়গায় দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে; একাধিক জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে।
ভোটের ফলের দিন গত মঙ্গলবার রাতে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আনন্দবাজার। পাশাপাশি রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা, কুমারপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি এবং বার্ণপুরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কিছু কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। গত সোমবার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রথম হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেদিন কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নিউটাউনে বিজেপির বিজয় মিছিলে হামলা চালিয়ে আরও এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের কংগ্রেস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, একটি ফোন আসার পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। মঙ্গলবার বাড়ির সামনেই তার রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এ ছাড়াও বীরভূম জেলার নানুর সন্তোষপুরে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আবির শেখ (৪৫) নামের ওই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তাকে রাস্তায় একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তার দলের অন্তত ৩০০-৪০০ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১৫০ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো রকম ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে বিজেপি এসবের দায় স্বীকার করেনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, সহিংসতা ও ভাঙচুরে তাদের কোনো কর্মী জড়িত নন। তার দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এসব ঘটনার দায় নিতে হবে। সহিংসতা রুখতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোথাও ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর মহাপরিচালককে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রস্তুত থাকতে বলেছেন জেলা কর্র্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
