যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে হোয়াইট হাউজ। গতকাল বুধবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এই আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানের একটি সূত্রও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানি সূত্রটি জানায়, ‘খুব দ্রুতই আমরা এটি শেষ করব; আমরা সমঝোতার খুব কাছাকাছি’। চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে; বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দিতে রাজি হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ওপর উভয় পক্ষ যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাও তুলে নেওয়া হবে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইরানের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি আসেনি, তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ এখন সমঝোতার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। হোয়াইট হাউজ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইরানি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সিএনবিসি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করছেন। এই সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে ৩০ দিনের একটি বিস্তারিত আলোচনার সময়কাল শুরু হবে। এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে।
এই ঘোষণার আগেই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি মিশন স্থগিতের ঘোষণা দেন। গত রবিবার ঘোষিত ওই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু এ উদ্যোগ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয় এবং উল্টো ইরানের নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি করে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা করবে না। পাশাপাশি জাতিসংঘ পরিদর্শকদের হঠাৎ পরিদর্শনের অধিকার দিতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা অর্থ মুক্তি দেবে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে। তেহরান এ প্রস্তাবটি আগে নাকচ করে দিয়েছিল।
এদিকে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের এক দিনের মধ্যেই প্রকৃত চুক্তি লিখে ফেলতে হবে এমন নয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিগত বিষয়। তবে আমাদের এমন একটি কূটনৈতিক সমাধান দরকার, যেখানে তারা কোন বিষয়ে আলোচনা করতে চায় এবং শুরুতেই কী ধরনের ছাড় দিতে রাজি আছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যাতে আলোচনার সার্থকতা থাকে।’
