এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৯.০৪ শতাংশ

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের (মার্চ) তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে  দাঁড়িয়েছে। এতে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মূলত জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। 

জানা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে বিশ^জুড়ে জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়তে শুরু করে। তবে যুদ্ধ শুরুর মাসখানেক পর দেশের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার। এর প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে দাম বেড়েছে খাদ্যপণ্যে ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই। তাও বেশ বড় ব্যবধানে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসের এই হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩, জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এপ্রিলে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মার্চের ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও প্রভাব সম্পর্কে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসের ১৯ তারিখ তেলের দাম বাড়ানো হলেও এর প্রভাব আগেই দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়তে শুরু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত