শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড

বিচারের মুখোমুখি দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকান্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একই টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকেও হাজির করতে বলেছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৪ মে তাদের হাজির করতে হবে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা জুলাই হত্যাকান্ডের মামলায় কারাগারে আছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুপুরে তার কার্যালয়ে ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (তিন আসামি) যেহেতু হেফাজতে আছেন, তাদের প্রোডাকশন (হাজির) চাওয়া হয়েছে। আগামী তারিখে হয়তো এই মামলা তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। সেখান থেকে মামলার স্বার্থে তাদের সেফ হোমে নিয়ে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরের ঘটনায় প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা।’

শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে। ইতিমধ্যে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার বরাতে জানিয়েছেন হেফাজতের ওই সমাবেশ কেন্দ্র করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিহত ৫৯ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন।

এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঘটনার সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, আব্দুল জলিল ম-ল প্রমুখ।

২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০১৩ সালের ৫ মে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে মতিঝিল এলাকায় সমাবেশের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। তবে সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই দিন মধ্যরাতে অভিযানে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ হেফাজতের ৬১ জন নিহতের তথ্য জানায়। তবে পুলিশ দাবি করে, অভিযানে কেউ মারা যায়নি। দিনভর সংঘাতে ১১ জন নিহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত