গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ১১ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৮৬ জনের । সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৩৮ জন। মোট হামজনিত নতুন রোগী পাওয়া গেল ১ হাজার ৫২৪ জন। সরকারি হিসাবে দেশে হামে ৫৭ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ২৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জন। এই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩১ হাজার ৯১২ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনের। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৩৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছয়জন, রাজশাহীতে দুইজন, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
সরকারি হিসাবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩৮ জন। এ বিভাগে ‘সন্দেহজনক হামে’ মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের। এর পরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, সিলেট ১৮ জন, খুলনায় ১৫ জন, বরিশালে ১২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন।
হামের প্রাদুর্ভাব নজরে আসার পরপরই সরকার তড়িঘরি করে টিকা দেওয়া শুরু করে। গত ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু করে। ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু করা হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়। এখন ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, প্রথম ধাপে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩১ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ১ হাজার ৮০৮ শিশুকে টিকা দেওয়া। কিন্তু টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৬৫ শিশু। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৫ শতাংশ বেশি শিশু টিকা পেয়েছে।
