সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার হচ্ছে

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুুলিশে বিশৃঙ্খলা হচ্ছিল। এতে সেনাবাহিনী নানাভাবে সহায়তা দিয়ে এসেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর পুলিশকে একটা সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মাঠ পর্যায়ে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের ব্যারাকে ফেরত নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিলেট অঞ্চলে পাথর আহরণের বিষয়ে একটি সভা শেষে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে আমাদের একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে মাঠে রাখতে পারব না। নির্বাচিত সরকার, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমরা পুলিশ বাহিনীকে একটা সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফেরত নিয়ে আসতে পেরেছি বলে আমাদের এখন বিশ্বাস জন্মেছে, জনমনেও বিশ্বাস জন্মেছে। সেই অবস্থায় আমরা পর্যায়ক্রমে মাঠ  থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি এ কথা সত্য। তবে, সেটা আমরা কীভাবে করব, পুলিশ সেনাবাহিনী ও অন্য সংস্থাগুলো বসে তারা পর্যায়ক্রমে সেই ব্যবস্থা নেবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান বিশেষ অভিযানে গডফাদারদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। আপনারা অপেক্ষা করেন, দেখতে পাবেন।’ ‘অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু দাগি আসামি মাদক সংক্রান্ত, সন্ত্রাসবাদী বা জুয়া এবং অস্ত্রধারী এরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। সে বিষয়ে আমাদের সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে কিছু সাজাও নিশ্চিত করা হচ্ছে আর কি।’ যারা নেপথ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেন, তাদের কি আইনের আওতায় আনা হবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘তাদের কি আইনে আনা নিষেধ আছে? তাহলে কেন প্রশ্ন করা হবে? আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। আমরা সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করে অভিযানে নেমেছি। কোথাও কোথাও যৌথ অভিযান চলছে এবং কোথাও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একক অভিযান চালাচ্ছে। এটার অগ্রগতি আছে এবং এটা দৃশ্যমান যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আপনারা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগের চার জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কোয়ারিগুলো সচল করা নিয়ে আজ (গতকাল) তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা সবার মতামত অনুসারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আগে মাঠ পর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদন দরকার। এ জন্য কমিটিতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, উভয়  জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একজন পরিচালক থাকবেন সদস্য সচিব হিসেবে। কমিটি প্রয়োজনে যদি আরও বিশেষজ্ঞ নিতে চায় সে সুবিধাও রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, তা এই কমিটি সরেজমিনে দেখবে। তারা পরীক্ষা করবে কোথায় পানি আটকে যাচ্ছে পাথর ও বালি জমা হয়ে এবং কোথায় নদীভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কী পরিমাণে ও কত গভীরতায় পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশ সংরক্ষণ করা যাবে তা নিয়ে পরামর্শ দেবে। এছাড়া, সাদা পাথর, বিছানাকান্দি ও  ভোলাগঞ্জের মতো বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় যাতে পর্যটক আকর্ষণ করা যায় সে বিষয়েও পরামর্শ দেবে। তিনি আরও বলেন, ‘সেসব জায়গায় যাতে আমরা অন্তত একটা শৃঙ্খলা রাখতে পারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আছে এখানে, দুই এসপিকেও  সেখানে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। যাতে দুর্বৃত্তায়ন না হয় এবং পাথর লুট না হয় সে বিষয়ে তারা পরামর্শ দেবেন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আমরা পাথর আহরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এ নিয়ে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বসেছিলাম। আশা করি আমরা সব প্রতিবেদন পাব এ মাসের শেষ নাগাদ। তারপর জুনের প্রথম সপ্তাহে আবার বসব।’ বিভিন্ন পাথর কোয়ারি সম্পর্কে উচ্চ আদালতের দু-একটি আদেশ ও রায় আছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই জেলা প্রশাসক সব মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা নেবেন এবং অগ্রগতি কী হলো তা আমাদের পরবর্তী মিটিংয়ে জানাবেন। আমরা যা-ই করব আইন  মেনে এবং আদালতের রায় মাথায় রেখে, সম্মান জানিয়ে বিধি মোতাবেক করার চেষ্টা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত