দেশ দুর্নীতিমুক্ত করতে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টিআইবিপ্রধান দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীকে কিছু সুপারিশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সুপারিশগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান টিআইবিপ্রধান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে উভয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। টিআইবিপ্রধান দেশে সুশাসন ও দুর্নীতি দমনে সরকারকে কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ করেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জরুরি সংস্কার ও পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে টিআইবির সুপারিশগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে আমরা সরকারকে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন এবং এগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও পুনর্গঠন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়েছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বজুড়ে এ বার্তা দিতে চায় যে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ও অঙ্গীকারবদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনফারেন্স বাংলাদেশে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে টিআইবি। এ সম্মেলন বাংলাদেশে করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, প্রতি দুই বছর পরপর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলন হয়। চলতি বছর সম্মেলন হবে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে। এর আগে এশিয়ায় মাত্র তিনটি দেশ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও কোরিয়া এ আয়োজন করেছে। আমরা মনে করি, ২০২৮ সালের সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজন করার উপযুক্ত সময়। প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি পেলে বাংলাদেশ আয়োজনের চেষ্টা করবে। দুদক পুনর্গঠনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
ওয়াকফ সম্পত্তি লুটপাট করে খাওয়া যাবে না ধর্মমন্ত্রী : এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, শামীম কায়সার লিংকন এমপি এবং ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ।
সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে ধর্মমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি লুটপাট করে খাওয়া যাবে না। ওয়াকফ সম্পত্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং যৌক্তিক আয় ও যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাবে। মন্ত্রী জানান, আমাদের ওয়াকফ সম্পত্তি আছে প্রায় ছয় লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণিতে আছে দুই লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহতে আছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর। এসব সম্পত্তির অধিকাংশই এখন বেহাল অবস্থায় আছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন, সেই উদ্দেশ্য যে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
ধর্মমন্ত্রী জানান, গাউসিয়া মার্কেট ওয়াকফ স্টেট। এখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। মাসিক ভাড়া ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ভাড়া দুই হাজার ১১৮ টাকা, যা আশপাশের অন্যান্য দোকানের তুলনায় খুবই সামান্য। চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহ। সেখানে একটি দোকান ছিল, যার ভাড়া ছিল ৩৫ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে ওয়াকফ কমিটি ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকায় ওই দোকান ভাড়া দিয়েছে। ঢাকায় এ রকম প্রচুর ওয়াকফে লিল্লাহ সম্পত্তি আছে, যেগুলো লুটপাট করে খাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হলো, লুটপাট করে খাওয়া যাবে না, ওয়াকিফের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতে হবে, চুরি বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়কে প্রশাসকদের ভাড়া সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
