অস্ত্রের মুখে শিশুকে অপহরণচেষ্টা মায়ের!

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিন-দুপুরে অস্ত্রের মুখে ১০ বছরের শিশুকে অপহরণচেষ্টা করে তার মা ও একদল ভাড়াটে লোক। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গেলে সেখানেও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির মা-সহ অভিযুক্তদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শমশেরনগরের পার্শ¦বর্তী পাইকপাড়া ভূইগাঁও এলাকায় কবির আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয় একদল লোক। আদালতের রায়ের তোয়াক্কা না করে শিশু নেহা চৌধুরীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নেন তার মা নাজিরা আক্তার রুজি ও খালা নাদিরা আক্তারসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন। এ সময় শিশুর বড় চাচি সুমি আক্তার বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত ও চাচা আকিক আহমেদকে মারধর করা হয়। তবে পালানোর সময় স্থানীয়রা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অপহরণকারীদের থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেয়।

এ সংক্রান্ত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা কর্তব্যরত পুলিশের গায়েও হাত তোলেন এবং টানাহেঁচড়া করে এক পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই শুধু মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, শমশেরনগর ফাঁড়ি পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন ও অপরাধীদের বাড়ি একই জেলায় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) হওয়ায় এবং একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় থাকায় আইনি ব্যবস্থার বদলে আপস করেন তিনি। শিশুর বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ২০০৭ সালে নাজিরা আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। নাজিরা তার বাবার বাড়িতেই থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়ে নেহাকে নিয়ে আসি। এরপর নেহা আর তার মায়ের কাছে ফিরতে চায়নি। এ ঘটনায় নাজিরা আমার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আদালত ও কুলাউড়া থানায় পৃথক দুটি অপহরণ মামলা করে। উভয় ক্ষেত্রেই আদালত নেহার জবানবন্দি নিয়ে তাকে আমার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শুক্রবার সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তারা পুলিশের ওপরও হামলা করল। অথচ ইনচার্জ সাহেব তাদের কিছুই করল না। আইনের রক্ষকই যদি অপরাধীদের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা কার কাছে যাব?

অভিযোগের বিষয়ে নাজিরা আক্তার বলেন, কোর্ট কী, আর আইন কী। আমি কিচ্ছু মানি না। আমার মেয়েকে আমি নিবই।

সার্বিক বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত