দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো তামিলনাড়ু। দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি সবার কাছে ‘বিজয় থালাপতি’ নামেই পরিচিত। রবিবার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার না থাকায় শুরুতেই তিনি সরকার গঠন করতে পারেননি। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে গত ৫ দিন ধরে চলে তীব্র রাজনৈতিক তৎপরতা। বিজয় নিজে রাজ্যপালের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করেন এবং সমমনা দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড় নিয়ে সরকার গঠনে সফল হন বিজয়। তাকে সমর্থন জানায় কংগ্রেসের ৫ জন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির ২ জন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও সিপিআই-এমের ২ জন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ২ জন বিধায়ক। এই জোটবদ্ধ সমর্থনের ফলে তার পক্ষে মোট ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হয়। যদিও দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় বিজয়কে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে, তবুও তার সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট থাকছে।
বিজয় থালাপতির এই বিজয় কেবল একজন তারকার জয় নয়, বরং তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল পটপরিবর্তন। গত প্রায় ৬০ বছর ধরে এই রাজ্যের ক্ষমতা মূলত ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পর এই দ্বিদলীয় বৃত্ত ভেঙে নতুন কোনো শক্তির উত্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ৫১ বছর বয়সী এই নেতার হাত ধরে তামিলনাড়ু এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ে পা রাখল।
