দুই পেসার নিয়ে বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ জিততে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপে দলে ছিলেন ফাহিমা খাতুন। এরপর থেকে ছোট সংস্করণের প্রতিটি আসরে বাংলাদেশের দলে জায়গা হয়েছে তার। আরও একটি বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের অংশ হচ্ছেন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। 

রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলটিতে তেমন কোনো চমক নেই। সর্বশেষ ঘরের মাঠের দল থেকে একটি পরিবর্তন এসেছে। লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ৭ বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা শারমিন সুলতানা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাননি। তার জায়গায় নেওয়া হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ড হিটার হিসেবে পরিচিত তাজ নেহারকে। 

সর্বশেষ শ্রীলংকা সিরিজে রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন তাজ নেহার। আটটি টি-টোয়েন্টি খেলা এই ব্যাটার সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। আট ম্যাচে তার রান ৪৪, গড় মোটে ৬.২৮। এরপরও নাজ নেহারকে কেন দলে নেওয়া হয়েছে, সেই ব্যাখ্যায় নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন বলেন, ‘তাজ নেহার ভার্সেটাইল ব্যাটার, যিনি ১ থেকে ৬ নম্বর পজিশনের যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারে। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ ৫ ওভারে রান তোলার যে সমস্যা আছে দলে, তাজ নেহার সেটার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে খেলা, যেখানে বেশিরভাগ সময় পেস সহায়ক উইকেট হয়। কিন্তু বাংলাদেশ দলে নেওয়া হয়েছে কেবল দুজন পেসার। মূল স্ট্রাইক বোলার মারুফা আক্তার, তিনিই মূলত একমাত্র পেসার। এ ছাড়া আছেন বাঁহাতি স্লো মিডিয়াম পেসার ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। পেসার হিসেবে অবশ্য পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিতু মনিকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন সাম্প্রতিক সময়ে বদলে গেছে। এ ছাড়া পেসার সঙ্কটের ব্যাপারটিও আছে বাংলাদেশ দলে। সাজ্জাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো পেসারের পাইপলাইন বেশ সংকীর্ণ এবং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ইনজুরিতে পড়ে। যদিও ইংল্যান্ডের কন্ডিশন পেস সহায়ক হওয়ার কথা, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে উইকেট অনেকটা উপমহাদেশের মতো আচরণ করছে, যেখানে বল স্পিন করে। তাই কন্ডিশন বিবেচনা করে এবং স্পিনারদের ওপর ভরসা রেখে দল সাজানো হয়েছে।’

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ভালো ফর্মে নেই, আছে ইনজুরিও। অধিনায়কের প্রশ্নে প্রধান নির্বাচ বলেন, ‘জ্যোতির বিশ্বমানের হয়ে ওঠার সামর্থ্য আছে, কিন্তু সে দীর্ঘ সময় ধরে ইনজুরি নিয়ে খেলছে। এই ইনজুরি না থাকলে সে হয়তো আরও উচ্চপর্যায়ে যেতে পারতো।। ইনজুরি নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া তার ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও। এর একমাত্র সমাধান হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।’

আগামী ১২ জুন শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা হলো অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শক্তি প্রতিপক্ষ থাকলেও বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত তিনটি ম্যাচ জেতা। প্রধান নির্বাচকের ভাষায়, ‘পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে আমাদের আশা আছে, তিনটি ম্যাচে আমরা জিতব। আমাদের লক্ষ্য নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই তিনটা ম্যাচ আমাদের জেতা উচিত বলে আমি মনে করি।’ বিশ্বকাপের আগে এডিনবরায় স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, আগামী ২৫ মে দেশ ছাড়বেন জ্যোতিরা।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড: 

নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার (উইকেটরক্ষক), সোবহানা মোস্তারি, ফাহিমা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস এবং তাজ নেহার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত