পুলিশে ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০১:৩০ এএম

অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।

গতকাল রবিবার রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর পুলিশের কনস্টেবল তুফানা ইমরান, ডিএমপির এয়ারপোর্ট থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার, চটগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল ও সিটি এসবির মীর আশরাফ আলী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ পূরণ করা হবে। বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর নিলেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। সেজন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে; এএসআই থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে ও এসআই থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, যা তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালকে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিপূর্বক যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষান্তে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন বা কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূরীকরণে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশে আইন প্রণয়ন করা হবে। মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনকে সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে। মন্ত্রী এ সময় পুলিশ বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাক্সক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত