থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে কারামুক্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার তিনি রাজধানী ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর ফলে দেশটির এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
থাকসিনকে স্বাগত জানাতে কারাফটকে হাজির হন তার মেয়ে ও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাসহ পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা। সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট পরিহিত থাকসিন স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় ৭৬ বছর বয়সী থাকসিনের পরনে ছিল সাদা শার্ট আর নীল প্যান্ট। কারাফটক থেকে বেরিয়ে আসার পর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিনি থাই জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানান এবং নিজের দল ফিউ থাই পার্টি ও রেড শার্ট সমর্থকদের অভিবাদন জানান
থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতে জড়িত থাকার দায়ে তিনি থাইল্যান্ডের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। কারাদ- ভোগ করতে তিনি ২০২৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থাকসিনকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেন। সেদিন থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
কারাগারের বাইরে ‘তিনি কেমন বোধ করছেন’, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে থাকসিন হাত মাথার উপরে তুলেন আর জানান, তিনি ‘স্বস্তিবোধ’ করছেন। বলেন, ‘আমি শীতনিদ্রায় ছিলাম। আমি এখন আর কিছু মনে করতে পারছি না।’
থাকসিনের প্যারোলের মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময় তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে। থাইল্যান্ডের ‘ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস’র বিধি অনুযায়ী সাধারণ প্যারোল পাওয়া ৮৫৯ জন বন্দির একজন থাকসিন। প্যারোলে মুক্তির তিন দিনের মধ্যে থাকসিনকে ব্যাংকক প্রবেশন দপ্তর-১-এ হাজিরা দিতে হবে। ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায় থাকসিনের বাসভবন। সেটি এই দপ্তরের আওতাধীন। প্যারোল চলাকালে প্রতি মাসে একবার তাকে এই দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে।
আদালত বলেছিল, ২০২৩-২৪ সালে পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের ভিআইপি ওয়ার্ডে থাকসিনের দীর্ঘ অবস্থানকে কারাভোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ১১ মে (আজ) পর্যন্ত তার দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ তিনি ভোগ করেছেন, যা প্যারোল পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত।
গত দুই দশক ধরে থাকসিনের রাজনৈতিক বলয় থাইল্যান্ডের সামরিকপন্থী ও রাজতন্ত্রপন্থী অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ওই গোষ্ঠী তার জনতাবাদী রাজনীতিকে দেশটির প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করে। শিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে চারজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন।
