চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কালীপুর এলাকার বিখ্যাত রসাল লিচু এবার বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় এই লিচুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামও বেশ চড়া দেখা গেছে। স্থানীয় হাট-বাজারসহ চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ফলের দোকানে কালীপুরের লিচু কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো পুরোপুরি মৌসুম শুরু না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে প্রতি ১০০ লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর দাম আরও বেশি। স্থানীয় চাষিদের ভাষ্যমতে, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে আগাম বাজার ধরতে অনেক বাগান মালিক আগেই লিচু বিক্রি করছেন।
এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় যে সব লিচু বাগান রয়েছে সেসব লিচু আগেভাগে চাষিরা বাজারে বিক্রি করছেন হাতির ভয়ে। কারণ হাতির পাল লিচুগাছ তছনছ-সহ সব নষ্ট করবে এ আশঙ্কায়। আবুল কালাম, নুর আহমদ-সহ বেশ কয়জন লিচুচাষি বলেন, অতিরিক্ত ঝড়বৃষ্টিতে লিচু নষ্ট হবে এ আশঙ্কায় রঙ ধরতে বাজারে নিয়ে আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, আর কয়দিনের মধ্যে বাজারে সুস্বাদু ও মিষ্টি লিচু পাওয়া যাবে। বাঁশখালীর কালীপুরের বিভিন্ন গ্রাম সাধনপুর, বৈলছড়ি, পৌরসভার জলদী এলাকা, পুকুরিয়া শীলকুপ ও চাম্বল এলাকার বাগানগুলোতে এখন পাইকারদের আনাগোনা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশে পাঠানোর জন্যও লিচু সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্রেতাদের অনেকে জানান, কালীপুরের লিচু আকারে ছোট হলেও স্বাদে অতুলনীয় এবং তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় দাম বেশি হলেও তারা এই লিচুই কিনতে আগ্রহী। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, এবার বাঁশখালীতে ৫৬৫ হেক্টর লিচু চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে, তবে আগে থেকে একটু বৃষ্টি হলে ফলন আরও ভালো হতো।
