ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নেই শতাধিক কৃষকের নাম

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০২:০৪ এএম

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়া কৃষকদের ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেবে সরকার। কিশোরগঞ্জ কৃষি বিভাগ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির পরিমাণ নির্ণয় করে প্রশাসনের কাছে একটি তালিকাও জমা দিয়েছে। কিন্তু এই তালিকায় প্রায় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম বাদ পড়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিত কৃষকেরা বলছে, সব ধান হারিয়েও অনেকেই তালিকাভুক্ত হতে পারেননি বলে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেকেই।

ইটনা উপজেলার কুর্শি গ্রামের হযরত আলীর ছয় বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘাই তলিয়ে গেছে। জসিম উদ্দিনের ৫০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ ও শাহীন মিয়ার এক একর ৩০ শতাংশের মধ্যে এক একরই ডুবে গেছে। আলাল মিয়ার ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশের ধান কাটতে পেরেছেন। তমিজ উদ্দিনের ডুবে গেছে এক একর, কেটেছেন ৫০ শতাংশ। বকুল মিয়ার দুই একরের মধ্যে এক একর ২০ শতাংশই ডুবে গেছে। অথচ তাদের নাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় নেই।

তারা জানান, সপ্তাহখানেক আগে কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা এসে কয়েকজনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নেন। খবর পেয়ে তারা যেতে যেতেই ওই কর্মকর্তা চলে যান। তার পরিচয়ও কৃষকরা জানতে পারেননি। একই উপজেলার থানেশ্বর গ্রামের কৃষক সোয়াদ মিয়া ও আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় কয়েকটি হাওরের অনেক জমি তলিয়ে গেছে। কৃষকরা ধান কাটতে পারেননি। বাদলা ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ইটনা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নেই কমবেশি এ রকম ক্ষতি হয়েছে। অথচ কৃষি বিভাগ পুরো উপজেলায় মাত্র তিন হাজার ২৬১ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেখিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, যদি ক্ষতিগ্রস্ত কেউ বাদ পড়ে থাকে, তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত