পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করা ও বিশুদ্ধ মাংস উৎপাদনে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাভারের খামারিরা। এখানকার এক হাজার ২৩৯ খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার দিয়ে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারিরা। এ অবস্থায় পার্শ^বর্তী দেশ থেকে যেন গরু ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এবার ৯৩ হাজার ৪৬৫টি কোরবানি পশুর চাহিদার বিপরীতে সাভারের এক হাজার ২৩৯টি খামারে ১৫ হাজার ১৮৭টি পশু কোরবানির জন্য খামারিয়া প্রস্তুত করছেন বলে জানান সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারহানা জাহান। তিনি জানান, চাহিদার বাকিটা পূরণ করা হয় প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আসা পশু দিয়ে। নতুন নতুন খামার গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
ডা. ফারহানা জাহান জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাভারের খামারগুলো নিয়মিত পরিদর্শন, ভ্যাকসিন দেওয়া, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোরবানির পশুকে হরমোন স্টেরয়েড জাতীয় খাদ্য না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে নজরদারি রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভারে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল জার্সি, ফ্রিজিয়ান, হরিয়ানা, বুট্টি এবং মহিষ, দুম্বা ও ছাগল পালন করছেন খামারিরা। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে এসব পশুকে এনে লালন-পালন ও মোটাতাজা করছেন তারা। সামান্য অযত্নে পশুর যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন খামারিরা। পশুর বাড়তি যতœ নিতে লোডশেডিং সত্ত্বেও জেনারেটর চালু রেখে মাথার ওপর ফ্যান চালানো হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে পশু পালনে এবার খরচ বেড়ে গেছে বলে জানান খামারিরা।
শখের বশে খামার করা সাভার এগ্রোর রুমেল জানান, তার খামারের বয়স তিন বছর। সারা বছরই খামারে গরু, মহিষ, দুম্বা, গাড়ল, ছাগল লালন-পালন করেন। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ মাস আগ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রান্তিক এলাকা থেকে পশু এনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। ক্রেতা চাহিদার ভিত্তিতে এখানে ছোট, মাঝারি সাইজের গরু বেশি লালন-পালন করা হয়।
তিনি জানান, তার ফার্ম থেকে কেনা পশু ঈদের আগের দিন পর্যন্ত রেখে তারপর পেঁৗঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেন। তিনি জানান, গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণেও পশু পালনে খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় বাইরে থেকে পশু আমদানি করা হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি খামারিদের ব্যাংকিং সুবিধা ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানান এ খামার মালিক।
লালন ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী শাওন সরকার জানান, তাদের ফার্মে লাইভ ওয়েট ও সরাসরি দুভাবেই পশু বিক্রি করা হয়। গুণগত মানসম্পন্ন প্রাকৃতিক খাবারÑ কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, ভুসি, দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হয়। এ বছর প্রায় ২০০টি শাহিওয়াল, ফ্রিজিশান, হরিয়ানাসহ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং দেশের বাহির থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানান তিনিও। ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত পশু লালন-পালন করে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তারাও নেন বলে জানান।
খামার মালিক মুন্না জানান, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাভারের ফার্মগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। কেউ কেউ গরু দরদাম করে পছন্দ হলে বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন।
