পশ্চিমা বিশ্বকে নিজেদের শক্তির জানান দিতে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সারমাত সিরিজের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনকে উৎক্ষেপণ সম্পর্কে অবহিত করছেন। পশ্চিমা বিশ্বে ‘শয়তান-২’ নামে পরিচিত সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটি সোভিয়েত আমলে নির্মিত প্রায় ৪০টি ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি যুদ্ধের ময়দানে মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পুতিন। ২০৮ টন ওজনের এই ‘ডুমসডে’ রকেটটি উচ্চতায় প্রায় ১৪তলা ভবনের সমান। ক্রেমলিন নেতা জানিয়েছেন, আরএস-২৮ সারমাত উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে পশ্চিমে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণ বেশি।
পুতিন আরও দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টোরিতেই নয়, বরং সাব- অরবিটাল পথেও চলতে পারে। এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং এটি বর্তমান বা ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। ক্রেমলিনের দাবি সত্য হলে এটি হবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। সাধারণত যেকোনো নতুন কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের আগে ডজনখানেক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে আছে। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এটিই এর প্রথম সফল মিশন। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্লেসেটস্ক কসমোড্রোমে এটি উৎক্ষেপণ প্যাডেই বিস্ফোরিত হয়ে ২০০ ফুট চওড়া গর্ত তৈরি করেছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে উৎক্ষেপণের পরপরই একটি রকেট বিধ্বস্ত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা ব্যর্থতার পর এই পরীক্ষা চালানো হলো। সারমাত প্রকল্পের উন্নয়ন শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। গত মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির মাত্র একটি সফল পরীক্ষার তথ্য জানা গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালে একটি ব্যর্থ পরীক্ষার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সারমাত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত, এমন মিথ্যা দাবি করায় মহাকাশ সংস্থার দুই প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন পুতিন। এমনকি গত মাসে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানার প্রধান ৫৫ বছর বয়সী আলেকজান্ডার গাভরিলভকে সাইবেরিয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
