চীন-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ওপর কতটা নির্ভরশীল?

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

বিশ্ব অর্থনীতির দুই প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বর্তমানে এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পণ্য লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও শুল্ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রতিযোগিতা এই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

পেন ওয়ারটন বাজেট মডেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীন থেকে আসা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় কার্যকর শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৩১.৬ শতাংশে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও মার্কিন আমদানির ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চীন বর্তমানে সব মার্কিন পণ্যে ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্ক বসানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে বড় অংকের শুল্ক আদায় করছে। এর মধ্যে প্রোপেন ও ইথেনে ১১ শতাংশ এবং মার্কিন গরুর মাংসে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সরাসরি দেশটির কৃষি ও জ্বালানি খাতের ওপর প্রভাব ফেলছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ দুটির পারস্পরিক বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমেনি। পরিসংখ্যান বলছে, একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে মেক্সিকো ও কানাডার পরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক উৎস হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে প্রায় ৪৫৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার সিংহভাগই ছিল যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক মেশিনারি, আসবাবপত্র এবং বস্ত্রপণ্য।

বিপরীত দিকে, চীনও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সংগ্রহ করেছে। চীনের প্রধান আমদানির তালিকায় ছিল মার্কিন যন্ত্রপাতি, জ্বালানি তেল, খনিজ পণ্য এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে এই শুল্কযুদ্ধ চললেও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা একে অপরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই পারস্পরিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিই আগামী দিনে বিশ্ববাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত