চামড়া ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ সময় ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামরা যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তা হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির অধিক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। এ লক্ষ্যে সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানিযোগ্য গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে কোরবানির জন্য ১ কোটিরও বেশি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যেন কোনো পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবিসহ সীমান্ত এলাকার জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।

চামড়ার দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চামড়ার বাজার নিয়ে বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও চামড়ার দামের হ্রাস-বৃদ্ধি মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে। তবে সরকার চামড়া শিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত